২৩ ফেব্রুয়ারি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ : পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন গণপরিষদের অধিবেশনে বলেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তার এই মন্তব্যে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদে শেখ মুজিব অবিলম্বে মুসলিম লীগের এই পূর্ব পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ : ডাকসু এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ রেসর্কোস ময়দানে প্রায় ১০ লাখ ছাত্রজনতার সমাবেশে শেখ মুজিবকে এক বিশাল সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করে। ডাকসুর সভাপতি তোফায়েল আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ : ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু ২২ সদস্যের টিম নিয়ে পাকিস্তান গমন করেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ : কলকাতার ইসলামিয়া কলেজের বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে এই ছাত্রাবাসের ২৩ ও ২৪ নম্বর কক্ষগুলি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে স্বীকৃত ছিল। ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে বঙ্গবন্ধু বেকার হোস্টেলের ২৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন। মাঝেমধ্যে তিনি ২৪ নম্বর কক্ষেও থাকতেন। এই কক্ষে থাকা অবস্থাতেই তিনি ছাত্রদেরকে নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা করতেন। পরবর্তীতে হোস্টেল কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ গেলে বঙ্গবন্ধু দরজা খোলা রেখে আলোচনা সভা করতেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮: পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়। এই অধিবেশনে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস দলের গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮৬-১৯৭১) একটি সংশোধন প্রস্তাব উত্থাপন করে। সংশোধনটি ছিল খসড়া নিয়ন্ত্রণ প্রণালির ২৯ নম্বর ধারা সম্পর্কে, এই ধারায় বলা হয়েছিল পরিষদের প্রত্যেক সদস্যকে উর্দু বা ইংরেজিতে বক্তৃতা করতে হবে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির সঙ্গে বাংলাকেও পরিষদের সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব করেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে জরুরি তারবার্তায় বাঙালিদের ওপর নির্যাতন বন্ধ ও তাদের দ্রুত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, দেশ স্বাধীন হবার পর প্রায় দুই লক্ষ বাঙালি পাকিস্তানে আটকা পড়েন। পাকিস্তান সরকার তাদের প্রতি যুদ্ধ বন্দিদের মতো আচরণ করে এবং নির্যাতন এবং বিভিন্ন অজুহাতে গুলি করে বহু বাঙালিকে হত্যা করে। পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গার সৃষ্টি করে বহু বাঙালিকে হত্যা করা হয়। চাকরিজীবীদের চাকুরিচ্যুত করে ক্যাম্পে আটক রেখে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য করে।
২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ : পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার পরের দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ২২ সদস্য নিয়ে পকিস্তানের উদ্দেশ্যে ওআইসি সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। শীর্ষ সম্মেলনের ভাষণে এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, “ধ্বংস নয় সৃষ্টি, যুদ্ধ নয় শান্তি।”