২৪ জুলাই

আপডেট: July 24, 2020, 12:01 am

২৪ জুলাই ১৯৬৬ : বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে লিখেছেন, “আব্বার চিঠি পেলাম আজ সকালে। আমি যখন চিঠি পড়ি একজন কয়েদি পাহারায়, লেখাপড়া জানে, জিজ্ঞাসা করল, ‘চিঠি কি আপনার আব্বা লিখেছেন?’ বললাম, ‘হ্যাঁ, তুমি বুঝলে কেমন করে?’ বলল, ‘দেখলাম লিখেছেন ‘বাবা খোকা’। বাবা ছাড়া আর একথা আর কে আপনাকে লেখতে পারে!’ আমি হেসে উঠলাম এবং বললাম, ‘বাবা-মায়ের কাছে আজও আমি ‘খোকা’ই আছি। যতদিন তাঁরা বেঁচে থাকবেন ততদিনই এই বলেই ডাকবেন। যেদিন এ দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন আর কেহই এ স্নেহের ডাকে আমাকে ডাকবে না। কারণ এ অধিকারই বা কয়জনের আছে! আমার ৪৫ বৎসর বয়স, চুলেও পাক ধরেছে। পাঁচটি ছেলেমেয়ের বাবা আমি, তথাপি আজও আমি আমার বাবা-মায়ের কাছে বোধহয় ‘সেই ছোট্ট খোকাটি’ – এখনও মায়ের ও আব্বার গলা ধরে আদর করি, আমার সাথে যখন দেখা হয়।
আমার বাবা খুব শান্ত প্রকৃতির লোক। সকল সময় গাম্ভির্য নিয়ে থাকেন। তাঁকে আমরা ভাইবোনেরা ভালবাসতাম এবং ভয়ও পেতাম। আমার মা আমাদের না দেখলেই কাঁদতেন। তাঁর মধ্যে আবেগ খুব বেশি। কিন্তু আমার বাবার সহ্যশক্তি অসম্ভব। জীবনে মুখ কালো করতে আমি দেখি নাই। বোধহয় একটু চঞ্চল প্রকৃতির ছিলাম বলে বাবা আমাকেই খুব বেশি স্নেহ করতেন। আব্বা এক জায়গায় লিখেছেন ‘তোমার গত ১৯/৬/৬৬ এবং ১/৭/৬৬ চিঠি দুইখানা গতকাল পাইয়া তোমার কুশল জানিতে পারিলাম। তবে আমাদের জন্য যে সব সময় চিন্তিত থাক তাহাও বেশ বুঝিলাম। কখনও আমাদের জন্য চিন্তা করিবা না, খোদার মর্জিতে আমাদের মতো সুখী লোক বোধহয় নাই; থাকিলেও খুব কম। আমার সহ্যশক্তি আছে, বিপদে আপদে কখনও বিচলিত হই না, তাহা তোমার ভালভাবে জানা আছে।’ [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা ১৭৮-১৭৯]