২৫ বছর পর ভোট দেয়ার আনন্দ তাদের

আপডেট: জুন ১৫, ২০২২, ২:৩৭ অপরাহ্ণ


শাহীন রহমান, পাবনা :


দীর্ঘ ২৫ বছর ভোট দেয়ার আনন্দ উপভোগ করলেন পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ভোটাররা। বুধবার (১৫ জুন) এই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নানা হুমকি ধামকিতে বিগত চারটি ইউপি নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারেননি এমনটাই দাবি তাদের। আর এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সাইদ খানা টানা পাঁচবার নির্বাচিত হন। তিনি পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী।

বুধবার সকাল নয়টা থেকে এই ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া প্রহরায় দীর্ঘ ২৫ বছর পর মহাদেবপুর গ্রামের ভোটাররা নলদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আসেন।

সারিবদ্ধ লাইনে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকা রাজ্জাক, সালাম, মমিন, হারেজসহ বেশ কয়েকজন পুরুষ ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চারটি নির্বাচনে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবারে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা ভোট দিতে আসতে পেরে খুব খুশি হয়েছেন।

নারী ভোটারদের মধ্যে সালমা, রাজিয়া, মর্জিনা, চামেলিসহ কয়েকজন বলেন, যে বারই বাড়ি থেকে নলদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, তখনই কেন্দ্রের দূর থেকে নানা হুমকি ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের ভোট দিতে দেয়া হয়নি। আমরা দীর্ঘ ২৫ বছর পর কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

নলদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের সুলতান মাহমুদ বলেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী প্রার্থী পরপর চারবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবু সাঈদ খান। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিগত ২৫ বছরে মহাদেবপুর গ্রামের ভোটাররা এই কেন্দ্রে আসতে পারেনি। দিতে পারেনি ভোট। পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মহাদেবপুর গ্রামবাসীকে ভোট কেন্দ্রে আনতে পেরে ভালো লাগছে।

কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর কর্মতৎপরতা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারনে এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, ভোট দিতে আসা একজন নাগরিকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কেউ ভোট দিতে না আসলে সেটা তার ব্যাপার। এখানে ষড়যন্ত্র করে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটানো হয়েছে।

আমি টানা চারবার জনগনের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। মানুষের ভালোবাসায় আমাকে প্রতিপক্ষের সহ্য হচ্ছে না। অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও আমার জয় নিশ্চিত জেনে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার সহকারী অধ্যাপক আব্দুল খালেক মিঠু বলেন, নির্ধারিত ভোটার সময় মেনে ভোট দেবেন। দায়িত্বপ্রাপ্তরা সময় ধরে ভোট দেবেন, আমরা নিবো। চার হাজারের অধিক ভোটার রয়েছে।

শুনেছি অনেক বছর পর একটি গ্রামের ভোটাররা এসেছে। দীর্ঘদিন পর তারা ভোট দেবেন আর আমরা নিবো এটা আমার কাছে আনন্দের লাগছে।

পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, মানুষ ভোট দিবে, কেন্দ্র মুখি করতে চেষ্টা করেছি। শুধু মহাদেবপুর গ্রাম নয়, সকল ভোটারকে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। উল্লেখ্য, মহাদেবপুর গ্রামের মোট ভোটার ৯৪৮ জন বলে জানা গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ