২৫ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পাস করছে! উদ্বেগজনক পরিস্থিতির অবসান হওয়া চাই

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সরকারি হিসাবে ৭০ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পাস করে বললেও ২৫ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পাস করছে বলে দাবি করেছেন মালালা ফান্ডের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মোশাররফ তানসেন।
১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে মালালা ফান্ড, গণসাক্ষরতা অভিযান ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করা হয়েছে।
কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভের মতে ক্রমান্বয়ে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে মাধ্যমিকে, তার চেয়ে কমছে উচ্চ মাধ্যমিক। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করা মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অবশ্যই উদ্বেগজনক। বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের দাবি রাখে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। এমন কোনো পেশা নেই যেখানে নারী তার সক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং এ কথা নিঃসংকোচে বলা যায় যে, দেশের অর্থনৈতিক ধারার যে অগ্রগতি সেটা নারীর সহযোগী ভূমিকারই ফল। এটা খুবই আশাপ্রদ যে, নারীর সক্ষমতা ও উদাহরণ এই নিশ্চয়তা দেয় যে, নারী শক্তি কাজে লাগাতে পারলে এসডিজি অধরা থাকবে না। কিন্তু এর জন্য বাস্তব অবস্থাকে স্বীকার করে নিয়েই সম্ভাব্য করণীয় ঠিক করার এখনই সময়। নারীদের সামনে চলার পথে সব ধরনের বাধা দূর করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে যে সব সুপারিশ করা হয়েছে তা প্রণিধানযোগ্য বলেই মনে হয়েছে। এ গুলো নীতি-নির্ধারক মহলে বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। এটা বলা যায় যে, বৈষয়িক উন্নয়ন সামগ্রিক উন্নয়ন নয়। মানোজাগতিক উন্নয়নটাও অত্যন্ত জরুরি। মানুষের এই একাট মাত্র স্বভাব যা মানুষকে মানবিক ও সংবেদনশীল হতে শেখায়। এটি নারী-পুরুষ সকল ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রযোজ্য। নারীর মনোজাগতিক উন্নয়নে তাদের মতামতের গুরুত্ব অপরিসীম। তা উদারভাবে গ্রহণ করতে না পারলে নারীর প্রতি বিচারহীনতা সমাজে ক্ষত হয়ে থেকেই যাবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে ঐকমত্য হতে হবে এবং মেয়েদের উদ্দেশ্যে করা পূর্ব প্রতিশ্রুতিসমূহ পালনে বিশ্ব নেতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, যুদ্ধ-সংঘাত শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে মেয়েদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে। এই বাস্তব অবস্থাটা বাংলাদেশের জন্য ভীষণ রকমের প্রকট। এই যে দেশের বিপুল সংখ্যক মেয়ে শিক্ষার্থীর পরিস্থিতির শিকার হওয়াটা অমানবিক যেমন, তেমনি বৈষম্যের ধারণাকেও পোক্ত করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ