২৬ মার্চ

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২১, ১০:৪২ অপরাহ্ণ

২৬ মার্চ ১৯৬৬ : সফলভাবে সমাপ্ত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের পর বঙ্গবন্ধু সারা দেশ চষে বেড়ান। ২৬ মার্চ সন্দ্বীপ এবং ২৭ মার্চ সাতকানিয়ার বিশাল জনসভায় ছয় দফা ব্যাখ্যা করে বক্তৃতা করেন। উত্তরাঞ্চল সফরে যান ৭ এপ্রিল। ওই দিন পাবনা ও নগরবাড়ীর জনসমাবেশে বক্তৃতা করেন। ৮ তারিখ বগুড়া, ৯ তারিখ রংপুর, ১০ তারিখ দিনাজপুর, ১১ তারিখ রাজশাহী, ১৪ তারিখ ফরিদপুর, ১৫ তারিখ কুষ্টিয়া, ১৬ তারিখ যশোর এবং ১৭ তারিখ খুলনায় বিশাল সব জনসভায় ছয় দফার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
এভাবে সারা দেশে ৩৫ দিনে মোট ৩২টি জনসভায় বক্তৃতা করেন তিনি। বিপুলসংখ্যাক মানুষের অংশগ্রহণে লাগাতার জনসভায় প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতায় ছয় দফার স্বপক্ষে জনমত প্রবল হয়ে ওঠে।
২৬ মার্চ ১৯৭১ : ১২-৩০ মিনিট অর্থাৎ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হবার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাবার্তা ওয়্যারলেস (ইপিআরদের ওয়্যারলেস) যোগে চট্টগ্রামের জহুরুল আহমেদ চৌধুরীকে প্রেরণ করেন। চট্টগ্রাম বেতার থেকে আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বাণী স্বকন্ঠে প্রচার করেন। ২৬ মার্চ দুপুরের আগেই, হ্যান্ডবিল আকারে তা চট্টগ্রাম শহরে বিলি করা হয়। পরে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে অবস্থিত অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান ওই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
২৬ মার্চ ১৯৭১ : রাতেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসে, পরে করাচিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এটিসি অফিসার স্কোয়াড্রন লিডার খাজা, সিনিয়র অপারেশন অফিসার উইং কমান্ডার খাদেমূল বাশার এবং বিমানবন্দরের পরিচালক ও ফ্লাইট সিকিউরিটি স্কোয়াড্রন লিডার এমআর নাককে দিয়ে শেখ মুজিবকে মধ্যরাতের পরে তেজগাঁও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জরুরি অবস্থার কারণে সকলেই সেই রাতে ডিউটিতে ছিলেন। মুজিবকে পশ্চিম পাকিস্তানে স্থানান্তরিত করা হয় এবং ফয়সালাবাদের (তৎকালীন লায়লপুর) কাছে একটি কারাগারে ভারি পাহারায় রাখা হয়।
২৬ মার্চ ১৯৭১ : জেনারেল ইয়াহিয়া এক ভাষণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যায়িত করে।
২৬ মার্চ ১৯৭২ : শোষণহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় মাঠে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে আয়োজিত ‘ক্রীড়া ও বিচিত্রা অনুষ্ঠানে’ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছার পরপরই ছাত্রী ও দর্শকরা আনন্দে ফেটে পড়ে এবং ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জয় বাংলা’ প্রভৃতি ধ্বনি দিতে থাকে। প্রধানমন্ত্রীকে স্কুল ছাত্রীরা গার্ড অব অনার প্রদান করে।