২৮ দিনে ই-নামজারি বাস্তবায়নে উদ্যোগ ভূমিসেবা সহজ হোক, দুর্নীতিমুক্ত হোক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

ভূমিসেবা নিয়ে মানুষের বিস্তর অভিযোগ। ভূমি অফিস সম্পর্কে অনিয়ম-দুর্নীতির কথা লোকমুখে। এর সবটুকুই যে সত্য তা যেমন নয় তেমনি সম্পূর্ণটাই মিথ্যা তেমনটি নয়। উদাহরেণের কমতি নেই যে, ভূমিসেবা নিতে মানুষ নানা হয়রানি- ও দুর্নীতির সম্মুখিন হয়ে থাকে। এই ভূমি সম্পর্কিত দুর্বিপাকে পড়ে অনেক পরিবার নিঃশেষ হয়ে গেছে, জমি হারিয়েছে, দরিদ্র হয়েছে।
অবশ্য সরকার ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নানামুখি কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। দুর্নীতির প্রবণতারোধে ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দপ্তরের অধীন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকাল তিন বছর পূর্ণ হওয়া কর্মচারিদের দ্রুত অন্যত্র বদলির নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ভূমিসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহারও বৃদ্ধি করা হয়েছেযা সেবা কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে, দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাওয়া যাবে।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভূমিসেবা প্ল্যাটফর্মে ই-নামজারির গড় নিষ্পত্তির সময় নিয়মিত মনিটরিং করা, ২৮ দিনের অধিক অনিষ্পন্ন ই-নামজারি মামলাগুলো সমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বের সিস্টেমের কারণে যেসব আবেদন ‘মিথ্যা-নেতিবাচক’ অনিষ্পন্ন/পেন্ডিং দেখাচ্ছে সেসব সমাধান করার উপায়ও জানানো হয়েছে একই চিঠিতে। সামগ্রিকভাবে ই-নামজারি নিষ্পত্তিতে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত মাত্রার সময় ব্যয় হওয়ার অন্যান্য সকল ধরনের কারণ জানানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।
এছাড়া মাঠ পর্যায়ে ই-নামাজারি আবেদন নিষ্পত্তিতে ২৮ দিনের অধিক সময় ব্যয় হওয়ার কারণগুলোর ব্যাপারে অবগত হবার পর সেই অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
চিঠিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, ২৮ দিনের বেশি প্রদর্শিত হবার সম্ভাব্য বিভিন্ন ধরনের কারণের মধ্যে এমন দুটি ‘মিথ্যা-নেতিবাচক’ কারণও আছে, যা পুরনো সিস্টেমে কিছু অবস্থা নিছক আমলে না নেয়ার কারণে হয়েছে।
শতভাগ অনলাইনে ই-নামজারি বাস্তবায়িত হলে মানুষের দুর্ভোগ যে দূরীভুত হতে থাকবে তা বলাই বাহুল্য। সরকারের এই সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে সেটা প্রত্যাশা করাই যায়। আমরা জানি, নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করার ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে রক্ষণশীলতার মনোভাব কারো কারো মধ্যে থাকতেও পারে। সেটা তাদের ব্যক্তিগত লাভালাভের কারণও হতে পারে। তবে সরকারের উদ্দেশ্যটা খুবই সরল আর সেটি হলো ভূমিসেবা মানুষের কাছে সহজ করা, দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত করা। সরকার এর ত্রুটি-বিচূতিগুলোকে শনাক্ত করতে চায়। শতভাগ ই-নামজারি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ মূল উদ্দেশ্যেরই সহায়ক হবে। অনিয়ম- দুর্নীতির নিগড় থেকে ভূমিসেবায় সাধারণ মানুষের অভিগম্যতা নিশ্চিত করবে- এই প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ