৩০ জুন

আপডেট: June 30, 2020, 12:13 am

৩০ জুন ১৯৬৬ : রাজশাহীতে এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমি কী চাই? আমি চাই আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাক। আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ বেকার, তারা কাজ পাক। আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ সুখী হোক। আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ হেসেখেলে বেড়াক। আমি কী চাই? আমার সোনার বাংলার মানুষ আবার প্রাণ ভরে হাসুক।”

 

৩০ জুন ১৯৬৬: বঙ্গবন্ধুর লেখা থেকে, “সকালে উঠে হাঁটছিলাম। ৭ তারিখে হরতালের দিনে যে ছেলেগুলিকে ধরেছিল তার মধ্যে কয়েকটা ছেলেকে আমার কাছেই পুরানা ২০ সেলে রেখেছিল। নাস্তা নিতে বের হয়েছে। দু’টি ছেলে আমাকে দেখে বলছে, ‘স্যার আমাদের সাজাও দেয় নাই যে খেটে খাবো, আবার জামিন নেওয়ারও কেহ নাই। আমরা গ্রাম থেকে চাকরির জন্য এসেছিলাম।’ বলুন তো এদের কি উত্তর দেব? ওরা কি বোঝে আমিও কয়েদি? শুধু কয়েদি নয় আলাদা করে রেখেছে, একাকী। কিছুই না বলে চুপ করে রইলাম। মনে মনে বললাম, এ অত্যাচার আর কতদিন চলবে।

 

দুপুরে কাগজ এলে দেখলাম সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ, নিখিল পাক সংবাদপত্র সমিতি ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি সমবায়ে গঠিত যুক্ত কমিটি অদ্য দৈনিক ইত্তেফাকের বিরুদ্ধে গৃহীত সরকারি ব্যবস্থার প্রতিবাদে আগামী ৫ই জুলাই একদিন প্রতীকী ধর্মঘট পালনের জন্য সংবাদপত্র শিল্প ও সংবাদ সরবরাহ সংস্থাসমূহের প্রতি আহবান জানাইয়াছেন। ৫ই জুলাই সান্ধ্য পত্রিকা ও ৬ই জুলাই কোনো প্রভাতি পত্রিকা যাহাতে প্রকাশিত হতে না পারে সেই জন্য অনুরোধ জানাইয়াছেন। সমস্বয় কমিটির সদস্যবৃন্দ ইত্তেফাক সম্পাদক জনাব তফাজ্জল হোসেনের গ্রেপ্তার ও তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

 

নিশ্চয় এটা একটা শুভ সূচনা। কারণ আজ ইত্তেফাক ও ইত্তেফাক সম্পাদকের বিরুদ্ধে হামলা, কাল আবার অন্য কাগজ ও তার মালিকের উপর সরকার হামলা করবে না কে বলতে পারে! সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে তো কিছুই নাই, এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা শুরু করেছে। পাকিস্তানকে শাসকগোষ্ঠী কোন পথে নিয়ে চলেছে ভাবতেও ভয় হয়। আজ দলমত নির্বিশেষে সকলের এই জঘন্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান উচিত।

আজ জুন মাস শেষ হয়ে গেল।” [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা, শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা নং- ১৩৫-১৩৭]
৩০ জুন ২০১১ : সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা হয়। সংশোধনীটি বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এটি সংবিধানে নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলি করেছে:
* মহিলা রিজার্ভ আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বেড়ে ৫০ এ উন্নীত হয়েছে।
* Article ৭ নং অনুচ্ছেদের পরে এটি অতিরিক্ত-সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা গ্রহণের অবসানের জন্য ৭ (ক) এবং ৭ (খ) নিবন্ধ সন্নিবেশ করেছে।
* ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার।
* জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রের নীতির মৌলিক নীতি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত।
* শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।