৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ ব্যত্যয় ঘটালে ব্যবস্থাও নিতে হবে

আপডেট: June 27, 2020, 12:10 am

করোনাভাইরাসের প্রকোপে দেশে নানামুখি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সমস্যাটি বৈশ্বিক। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সমস্যা আরো প্রকট। ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার বহু লক্ষণ দেখা দিয়েছে। সমাজের ক্রমধারায় এর প্রভাব গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। খুবই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারেÑ যা সামাল দেয়া বাংলাদেশের জন্য কঠিনই হবে।
আমরা জানি সাধারণ পেশাজীবী মানুষ করোনাভাইরাসের মুখে পড়ে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এদের অনেকেই কর্ম হারিয়েছে। আর্থিক ক্ষতির সাথে সাথে মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এসব বিপন্ন মানুষ। আবার ক্ষুদ্র বা ছোট ছোট ইউনিটে যারা ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা মোটেও ভাল নেই। তারাও পুঁিজ সঙ্কটে পড়েছেন. অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখি উদ্যোগ নেয়া হয়েছেÑ যাতে অর্থনীতির চাকাকে সচল করার যায়। জীবন-জীবিকা এতোই ওতপ্রোতভাবে জড়িত যে, একে পৃথক করে দেখার সুযোগ নেই। করোনাভাইরাসকে মেনে নিয়েই করোনা প্রতিরোধের সাথে সাথে জীবিকার লড়াইটাও চালিয়ে যেতে হবে। এই চ্যালেঞ্জই সবচেয়ে বড়।
করোনার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অর্থরিটি (এমআরএ)। তবে কোনো গ্রাহক স্বেচ্ছায় কিস্তি দিতে চাইলে টাকা নিতে কোনো বাধা থাকবে না। ২৩ জুন মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব সনদপ্রাপ্ত সব ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উল্লিখিত সময় পর্যন্ত কোনো ঋণ শ্রেণিকরণ/বকেয়া/খেলাপি দেখানো যাবে না। কোনো ঋণের শ্রেণি-মান উন্নতি হলে সেটা বিদ্যমান নিয়ামানুযায়ী তা শ্রেণিকরণ করা যাবে। সংকটকালীন মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট কর্তৃক ঋণ গ্রহীতাকে কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না।
সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তৃণমূলে তা বাস্তবায়নে গড়িমসি লক্ষ্য করা যায়। এর আগেও এনজিওগুলোকে ক্ষুদ্র ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছিল কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ঋণ আদায়ে এনজিও কর্মিদের বাড়াবাড়ি বা চাপ সৃষ্টির অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এতে অসহায় মানুষদের হাহাকারই প্রতিফলিত হয়ে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অর্থরিটি (এমআরএ)-এর যে নির্দেশ তার ব্যত্যয় ঘটছে কিনা সে বিষযটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং করতে হবে। যারা এর ব্যত্যয় ঘটাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ