৩১৭টি ঈদগাহ মাঠের ঈমামদের মাঝে নতুন পোষাক বিতরণ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ

এমরান আলী রানা, সিংড়া


ঈমামদের মাঝে নতুন পোষাক বিতরণ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক-সোনার দেশ

সিংড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্থানীয় সকল ঈদগাহ মাঠের ইমামদের সাথে মতবিনিময় ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ ওহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা বলেছিলো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদ থাকবে না, মাথায় টুপি থাকবে না। আজ তাদের মুখে কালি পড়েছে। কারণ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার উদ্যাগে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মিত হতে যাচ্ছে। এ থেকেই প্রমানিত হয় আওয়ামী লীগ সবসময় দেশে ইসলাম ধর্মের প্রকৃত খেদমত করেছে, এখনও করছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে কাজ করে গেছেন। টঙ্গির তাবলীগ জামাতের বৃহত্তর মাঠ বঙ্গবন্ধুর অবদান। ইসলাম ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করে তারা ক্ষমতায় থাকতে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেয়নি। অথচ জননেত্রী শেখ হাসিনা তার স্বীকৃতি দিয়েছেন। এসময় তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত সব সসময় জনগণের সাথে ভাওতাবাজী করে গেছে। দেশের জনগন জানে তারা শুধু মিথ্যাচার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারে নি। আগামী নির্বাচনে জনগন আবারও ভোটের মাধ্যমে তার সমুচিত জবাব দিবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, চলনবিলের বানভাসি মানুষ যাতে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং কোরবানি দেওয়া থেকে বিরত না থাকে সেজন্য ২৭টি আশ্রয় কেন্দ্রের পাঁচ হাজার মানুষের জন্য গরু ও খাসি কোরবানি দিয়ে দুই বেলা আহারের ব্যবস্থা করা হবে। ঈদের দিন সকালে তাদের সকলকে লাচ্ছা-সেমাই খাওয়ানো হবে। তিনি বলেন, সিংড়ায় এবারের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উজান ও ঢলের পানিতে রোপা আমন এবং আমনে প্রায় ১০৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় একশ কোটি টাকার মাছ।
বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে এসব ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বন্যায় উপজেলার ৮০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল। এদের মধ্যে ৫৩ হাজার ২৫ জন কৃষক এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষতি নিরুপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবে সরকার। বন্যা পরবর্তীতে তাদের জন্য সরকার বরাদ্দ দিলে কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আত্রাই নদীতে সোঁতি জাল সন্ত্রাসীরা জাল ফেলে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছিল। তাদের সেই সোঁতি জাল অপসারণ করা হয়েছে। তারা যাতে পুনরায় জাল ফেলতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। পাঁচ জন মানুষের কাছে চলনবিলের পাঁচ লাখ মানুষ জিম্মি থাকতে পারে না।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সিংড়ায় ৪৬০ টি গ্রামে ৭০০ টি মসজিদ রয়েছে। এদের মধ্যে ১৩৭ টি মসজিদে কোরআন শিক্ষা চালু রয়েছে। এসব মসজিদের ইমামরা সরকারিভাবে বেতন পাচ্ছেন। তারা ছেলে মেয়েদের কোরআনের শিক্ষায় আলোকিত করছেন। প্রতিমন্ত্রী ইমামদের উদ্দেশ্যে বলেন, সিংড়ার বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে ইমামদেরও দাঁড়াতে হবে। আসন্ন ঈদে বানভাসি মানুষের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে হবে সবাইকে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদ সদস্য রায়হান কবির টিটু, তাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন, শেরকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল, চৌগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদুর রহমান ভোলা, চামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম মৃধা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নবীর উদ্দিন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন প্রমুখ। এসময় প্রতিমন্ত্রী সিংড়া উপজেলার ৩১৭টি ঈদগাহ মাঠের ঈমামকে নতুন পোষাক, নগদ পাঁচশ করে টাকা প্রদান করেন এবং ইমামদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি ২৫টি পরিবারকে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন ও নগদ ৪ হাজার করে টাকা বিতরণ করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ