৩৩ জনের মৃত্যুতে ফাইজার টিকার সংযোগ পায়নি নরওয়ে

আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২১, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


নরওয়েতে ফাইজারের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব মৃত্যুতে ফাইজার টিকার সরাসরি কোনও সংযোগ মেলেনি। তবে ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়ার আগে অপেক্ষাকৃত দুর্বল টিকাগ্রহীতাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনায় নিতে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে নরওয়েতে টিকাদান কর্মসূচির প্রচারণা শুরু হয়। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট ৪৮ হাজার মানুষকে এ টিকা দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি বিবেচনায় প্রথম ধাপে বয়োজ্যেষ্ঠদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে ৩৩ জন বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন।
নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের পরিচালক ক্যামিলা স্টলটেনবার্গ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৩টি প্রাণহানির ঘটনার বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তারা সবাই বয়স্ক মানুষ, দুর্বল এবং তাদের গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে। তিনি বলেন, যে কারণগুলো উঠে এসেছে সেগুলোর ব্যাপারে এখনও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়নি।
ক্যামিলা স্টলটেনবার্গ বলেন, এটা মনে রাখা জরুরি যে নরওয়ের নার্সিং হোমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। সুতরাং এটি কোনও বাড়তি প্রাণহানির প্রতিনিধিত্ব করে না। এসব মৃত্যু ভ্যাকসিনের সঙ্গে সম্পর্কিত; এভাবে বলারও সুযোগ নেই।
ভ্যাকসিন নেওয়ার পর বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রাণহানির ঘটনায় নরওয়ে অবশ্য গুরুতর অসুস্থ রোগীদের এই টিকা নেওয়া উচিত কিনা সেটি চিকিৎসকদের স্বতন্ত্রভাবে পর্যালোচনার তাগিদ দিয়েছে। অন্য কয়েকটি দেশেও চিকিৎসকদের প্রতি একই ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের পরিচালক ক্যামিলা স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘এটি অসম্ভব নয় যে, যারা ভ্যাকসিন পেয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ এতোটাই দুর্বল ছিল যে, তাদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত ছিল। তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত নয়, কেননা তারা এতোটাই অসুস্থ যে টিকার স্বাভাবিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও তাদের জন্য খারাপ হয়ে উঠতে পারে।
নরওয়ের প্রতিবেশী ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও সুইডেনসহ আরও কয়েকটি দেশ টিকা দেওয়ার পরে প্রাণহানির কথা জানিয়েছে। তবে এসব মৃত্যুর সঙ্গে ভ্যাকসিনের সরাসরি কোনও যোগসূত্র প্রমাণিত হয়নি।
ফাইজার ও বায়োএনটেক সোমবার জানিয়েছে যে, তারা প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্য নরওয়েজিয়ান মেডিসিন এজেন্সির সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নরওয়ের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে মূলত কেয়ার হোমে বসবাসরত প্রবীণদের দিয়ে। এই প্রবীণ নাগরিকদের বেশিরভাগই অত্যন্ত বয়স্ক এবং তাদের শারীরিক অবস্থা নাজুক। অধিকাংশই স্থায়ীভাবে অসুস্থ।
এর আগে ভ্যাকসিন গ্রহণের পর বয়স্কদের মৃত্যুর জেরে অতিবৃদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদে অসুস্থ মানুষের জন্য ফাইজারের ভ্যাকসিনকে ‘মারাত্মক ঝুঁকি’ হিসেবে অভিহিত করে নরওয়ে। গত শুক্রবার নরওয়েজিয়ান মেডিসিন এজেন্সির চিফ ফিজিশিয়ান সাইগার্ড হোর্তেমো বলেছিলেন, টিকা নেওয়ার পর জ্বর ও বমি বমি ভাবের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ‘কিছু কিছু দুর্বল রোগীর ক্ষেত্রে তা ভয়াবহ পরিণতি’ নিয়ে আসতে পারে।
এদিকে ফাইজার ভ্যাকসিনে প্রাণহানির ঘটনায় নরওয়ের জরুরি পরামর্শ চেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ফাইজার কর্তৃপক্ষেরও বক্তব্য চেয়েছে ক্যানবেরা। কেননা, ভ্যাকসিনটির এক কোটি ডোজ কিনতে ফাইজারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ারও চুক্তি রয়েছে। ফলে এ নিয়ে যাবতীয় সংশয় দূর করতে চায় দেশটি। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্রেগ হান্ট বলেন, সরকার ব্যাপক সাবধানতার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে টিকাদানের ব্যাপারে আমাদের শিডিউলের কোনও পরিবর্তন হয়নি।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি অস্ট্রেলিয়ান মেডিক্যাল রেগুলেটর থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের অনুরোধ করেছি, এ ঘটনার ব্যাপারে তাদেরকে নরওয়ের চিকিৎসা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ফাইজারের কাছ থেকে বাড়তি তথ্য নিতে বলেছি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, তার দেশ ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সম্পর্কিত যে কোনও ঝুঁকি তদন্তের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র: এসবিএস নিউজ, জাগোনিউজ