৩৪দিন পর অবরুদ্ধ থেকে মুক্তি পেলো বাঁশিলা গ্রামের ১২৫টি পরিবার

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

নাটোর অফিস
অবশেষে ৩৪দিনের অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের ১২৫টি পরিবার। মুক্তি পাওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগিরা। শনিবার বিকেলে বাঁশিলা গ্রামে ৪ঘণ্টা ব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।
এর আগে ‘৩৪দিন ধরে অবরুদ্ধ ১২৫পরিবার, অভিযোগের তীর যুবলীগ নেতার দিকে’ এই শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসলে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.ফ.ম আনোয়ার হোসেন, নলডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত কামাল হোসেন, ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাই। এসময় নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, সেক্রেটারী দুলাল সরকার, নির্বাহী সদস্য সুফি সান্টু সহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে পুনরায় ছুটে যান।
পরে পুলিশ প্রশাসন, সংবাদকর্মী, দুই গ্রামের বাসিন্দা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্যদের নিয়ে একটি মিমাংসা বৈঠক বসে। দীর্ঘ ৪ঘণ্টা ব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই গ্রামীর মধ্যে বিরোধ মিমাংসা হয়। এই মিমাংসার মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ ৩৪দিনের অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তিলাভ করে বাঁশিলা গ্রামের মানুষ। এসময় একে অপরে কোলাকুলি করে শপথ করেন আর কোন দিন সংঘর্ষে জড়াবে না।
অবরুদ্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া বাঁশিলা গ্রামের ওসমান আলী বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ার জন্য আজ তাড়া অবরুদ্ধ থেকে মুক্তি লাভ করেছে। এজন্য পুলিশ প্রশাসন, মিডিয়া কর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, আগামী শুক্রবার সাংবাদিক ভাইদের জন্য মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।
মিমাংসা বৈঠকি উপস্থিত নাটোরের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক আফম আনোয়ার হোসেন বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বাঁশিলা গ্রামের মানুষরা যে ৩৪দিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল তা প্রকাশ হওয়ার পর জেলা পুলিশের নজরে আসে। এরপর তাৎক্ষনিক ভাবে পুলিশ গণমাধ্যমকর্মীসহ দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে মিমাংসা বসে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেয়। এজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।   গেল ১১ সেপ্টেম্বর ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নাটোরের নলডাঙ্গার মাধনগর ইউনিয়নের বাঁশিলা গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পিপরুল ইউনিয়ন বিলজোয়ানী গ্রামের বাসিন্দাদের। এরপর থেকে বাঁশিলা গ্রামবাসীকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিলজোয়ানী গ্রামের লোকজন। বাঁশিলা গ্রামের একমাত্র রাস্তাটি বিলজোয়ানী গ্রামের ওপর দিয়ে যাওয়ায় চাকরিজীবী, ভ্যানচালকসহ কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা কাজে যেতে না পারায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছিল।