৩৮ বছর রাজনীতি পথে প্রান্তরে শীর্ষক একক আলোচনা সভায় আসাদ দুঃসময়ের নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে

আপডেট: মার্চ ৬, ২০২১, ৯:৪০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাত ধরে, ৩৮ বছর রাজনীতি পথে প্রান্তরে শীর্ষক জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের একক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ৩ টায় রাজশাহী নগরীর শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেন্টার ফর পিপলস অ্যান্ড পলিসি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
একক আলোচনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যতবার চক্রান্তের শিকার হয়েছেন ততবার নতুন উদ্যোমে এগিয়ে চলেছেন। তাকে ২২ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি দমে যাননি। চট্টগ্রামে যখন তাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে তখন ২৪ জন নেতাকর্মী নিজের প্রাণ দিয়ে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছেন। আল্লাহর অশেষ কৃপায় শেখ হাসিনা নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে দলকে সংগঠিত করার কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। আমরা শেখ হাসিনার সেই ত্যাগী কর্মী। আমরা পুলিশের পিটুনি খেয়ে, পরিশ্রম করে নেতা হয়েছি। কিন্তু আজ ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, রাজশাহীর কাটাখালিতে আখঁচাষীদের সমাবেশে বিএনপির নাদিম মোস্তফা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলো। পরবর্তীতে তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন। আজ যারা ১৫ আগষ্ট ঘটানোর কথা বলেন তাদের জন্যে জেলা ছাত্রলীগ-মহানগর ছাত্রলীগই যথেষ্ট। মিজানুর রহমান মিনু আপনি রাজনীতি করেন। রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলবেন। অন্য ভাষায় কথা বললে সেই ভাষাতেই আপনাকে উত্তর দেয়া হবে হুশিয়ারি করেন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনিই বলেছেন, আমি ত্যাগি নেতাদের মূল্যায়ন করতে চাই। কিন্তু আপনার পাশের মানুষগুলো কি সেটা করে। আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এরপরও ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। টাকার বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াত চাকুরি পায়। আজকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের স্যার বলতে হয়। অথচ বঙ্গবন্ধু নেতাদের কাছে ভাই, মুরুব্বীদের কাছে শেখ সাহেব হিসেবে পরিচিত ছিলো। এখনো শেখ হাসিনা আমাদের কাছে আপা। আওয়ামী লীগতো গণমানুষের দল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যেসব নেতাদের স্যার বলতে হয় তাদের বিতাড়িত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রশিক্ষিত ত্যাগী কর্মী খুব বেশি নেই। আমরা যখন মিছিল করি তখন অনেক কর্মী দেখা যায়। কিন্তু এসব নেতাদের অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্র জানেনা। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগে এখন টাকার বিনিময়েও পদ পাওয়া যায়। আজকে অনেক টাকা ওয়ালা রাজনীতিবীদ সাজার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা রাজনীতিজীবী। আওয়ামী লীগ-ছাত্র লীগের মিছিলে সুবিধাবাদী জামায়াত-বিএনপির লোক থাকে। আজ সুবিধাবাদীরা ধন-সম্পদের মালিক হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সুঃসময়ে এদের পাশে পাওয়া যাবে না। আমরা রাজনীতিবীদ চাই, রাজনীতিজীবী নই। এ সময় তিনি দলের নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা প্রায় ১৫ টি আর্ন্তজাতিক মানের বিশ^বিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছে। সবমিলিয়ে আর্ন্তজাতিক ও জাতীয় ৪৫টি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আমরা মাথা উঁচু করে গর্বের সঙ্গে বলতে পারি আমরা শেখ হাসিনার কর্মী। তার হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে নিয়ে বাংলার পথে-প্রান্তরে ঘুরতেই আছি। এ কারণে আমি নিজেকে গর্বিত মনি করি। এসময় তিনি দলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান।
সভার শুরুতে আসাদের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শণ করা হয়। একক আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এবং কাকনহাট পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যাপক জিনাতুন নেসা তালুকদার, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাস আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান রবু, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ, সাধারণ সম্পাদক আলী আজম সেন্টু, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি রবিউল আলম বাবুসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।