৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শুরু আজ

আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

বিএনপির লাভের অংকটা মিলছে কি?

বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ রোববার ভোর ৬টা থেকে। এই অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ- উৎকণ্ঠা আছে। অর্থনৈতিক ক্ষতি তো আছেই। বিএনপি- জাময়াত জোট হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি তাদের দাবি আদায়ে যথার্থই মনে করছে। কিন্তু মানুষের এই ধরনের জ্বালাও-ডোড়াও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টিকারী কর্মসূচিতে সমর্থন আছে কি? এটা তো বলাই যায়, বিএনপি- জামায়াতের কর্মি-সমর্থকদের সমর্থন আছেই। কিন্তু তারাই কি মোট জনসর্থনের শেষ কথা? এর উত্তর খুঁজে বের করাটা মোটেও সহজ কাজ নয়। কিন্তু এই কঠিন কাজটিই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঠিক করতে হয়।

সময়ের প্রেক্ষিত বিবেচনা এবং জন-আতাক্সক্ষার সূত্র-সন্ধানে ব্যর্থ হলে বৈরি পরিস্থিতির মধ্যে পড়াটাও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। যে কোনো বিবেচনায়, পর্যবেক্ষণ-বিশ্লেষণে এটা স্পষ্ট যে, হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি নেহাতই অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এটা যে প্রমাণিত নয় তা ওইসব হরতাল-অবরোধকারী দলগুলোকেই প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু সেই কাজটি তারা করে দেখাতে পারেনি। কোনো রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যতমুখিনতা, প্রজ্ঞা ও সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা জ্ঞান না থাকলে কোনো আন্দোলনেই নেতৃত্ব যোগ্য হয়ে উঠবে না।

দেশে মূল্যস্ফিতির যন্ত্রণা সাধারণ মানুষ ভোগ করছেন, সহ্যও করছেনÑ কিন্তু হরতাল-অবরোধ তাদের কাছে মোটেও সহ্য-সহনীয় নয়। অর্থাৎ আন্দোলনের সহজ ইস্যুর বাইরে গিয়ে সাধারণের জন্য অসহ্য ইস্যুকেই কেন বেছে নেয়া হচ্ছে? সাধারণ মানুষের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সাথে জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসযজ্ঞ একবারেই মিলে না।

বরং ধ্বংসযজ্ঞ- জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনৈতিক ধারা ক্ষমত্সীনদের পালে জোর হাওয়া বইয়ে দেয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা এখন ফুরে ফুরে মেজাজেই আছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি পুরোপুরো তাদের। নির্বাচনটাও করে ফেলবে, পরিস্থিতিটা তেমনই।

রোববারের অবরোধ কর্মসূচি শুরুর অনেক আগেই রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও সায়দাবাদ জনপথের মোড়ে তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যার পর মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে এসব বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। এক্ষত্রে হরতাল-অবরোধকারীরা কী বলবেন? হয়ত তারা বলবেন এ কাজ তাদের নয়। কিন্তু অবরোধ কর্মসূচি তো তাদের! তারা কী দায় এড়াতে পারে?

সময় এখনো কিছুটা আছে। সংলাপ শুরু হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতসহ আরো কয়েকটি দল অংশ নেয়নি। কিন্তু অংশ নেয়ার সুযোগটা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। নির্বাচন কমিশন সে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সময়ের দাবিও তাই, নির্বাচনই আন্দোলনের বড় হাতিয়ার হতে পারে। অতিতের দৃষ্টান্ত না তুলে সময়ের প্রেক্ষিত বিবেচনায় নির্বাচনই কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। হরতাল-অবরোধ করে যে ক্ষমতাসীনদের দুর্বল করা যাবে না- সেটা অনেক আগেই টের পাওয়া গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ