৪৯৭ জন যাত্রী নিয়ে বনলতা চললো

আপডেট: May 31, 2020, 10:54 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাম থেকে রাজশাহী রেলস্টেশনে যাত্রীদের থার্মালস্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ট্রেনে উঠছেন যাত্রীরা। তবুও শঙ্কা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা-সোনার দেশ

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে জীবনের প্রয়োজনে জীবিকার অবশ্যম্ভাবিতার পথ ধরেই শুরু হলো জীবন-জীবিকার দ্বৈরথ। টানা ৬৬ বন্ধ থাকার পর রোববার (৩১ মে) সকাল ৭টায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে মোট ৪৯৭ জন যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী হয়ে ছেড়ে গেল একমাত্র বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস। এর আগে চলতি বছরের ২৫ মার্চ থেকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সব রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষিত ছিল।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম বলেন, বললতা ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা আছে ৯৮৭ জন। রোববার সকালের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে বিজোড় ৪৯৭টি টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১০৪ জন যাত্রী ছাড়া বাকিগুলো সবই রাজশাহীর ছিল।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য সুরক্ষার শর্তানুযায়ী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে জীবাণুনাশক কক্ষের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ, হাত স্যানিটাইজেশন ও নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়ে যাত্রীদের প্রথমবারের মতো ট্রেনে উঠতে হয়েছে। যাত্রার আগে ওয়াশপিটে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত করা হয় ট্রেনের ভেতর ও বাহির। এসি কোচে দুইটি অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। যেখানে ট্রেনের স্টাফসহ যাত্রীরা অসুস্থ হলে গার্ডকে অবহিত করলেই ওষুধসহ যাবতীয় সহযোগিতা করা হবে। এজন্য গার্ডদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তারা তাৎক্ষনিকভাবে ডাক্তাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে যেসব ওষুধ দেয়া দরকার, সেগুলো দিবেন।
রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম আরও বলেন, যাত্রীদেরকে এক ঘণ্টা আগে স্টেশনে আসতে হবে। তবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। কেউ যদি মাস্ক পরিধান না করে আসে, তাহলে তার টিকিট বাতিল করা হবে। আবার ট্রেনের ভিতরে খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে কোনো যাত্রী যদি ট্রেনের ভিতরে খাবার খায়। তাহলে তাকে শুকনো খাবার খেতে হবে।
সরেজমিনে রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা সুশৃখলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে ট্রেনে ওঠার সময় কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও জিআরপি থানা পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে ট্রেনে ওঠার বিষয়টি নিশ্চিত করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে নির্ধারিত সময়েই ছেড়েছিল বনলতা এক্সপ্রেস। এছাড়া ট্রেনের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য একটি সিট ফাঁকা রেখে আরেকটি সিটের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। অর্থাৎ ট্রেনের মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। তাই বলে টিকিটের মূল্যের কোনো হেরফের হয় নি। পূর্বের মূল্যেই যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করেছেন। নতুন সিট প্ল্যান অনুযায়ী ফাঁকা ফাঁকা করে কভার যুক্ত সিটে বসে ভ্রমণ করতে পেরেছেন রেলওয়ে যাত্রীরা। ট্রেনের মধ্যে কোনো হকার উঠতে দেয়া হয়নি। শুধু ট্রেনেই নয়, স্টেশনের প্লাটফরমে টিকিট ব্যতিত কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
এদিকে রাজশাহী থেকে এবছর প্রথম আম ঢাকা গেলো। সকালে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এক ব্যবসায়ী ২০ মণ আম ঢাকায় পাঠান বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে। যদিও বনলতা এক্সপ্রেস যাত্রীবাহী। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আমগুলো নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী রেল স্টেশনের ম্যানেজার আবদুল করিম বলেন, বিশেষ অনুরোধে আমগুলো যাত্রীবাহী এই ট্রেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে আগামী ৫ জুন থেকে পার্সেল ট্রেন চালু হলে, সেখানে কম খরচে আম পাঠাতে পারবেন যেকোনো ব্যক্তি।
রাজশাহীর দুর্গাপুরের আলতাফ হোসেন নামের এক আম ব্যবসায়ী জানান, ২০ মণ আম তিনি ঢাকায় পাঠিয়েছেন। সকাল সাতটায় তিনি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ওই আম তুলে দেন।
তিনি আরও জানান, ঢাকায় ট্রেন যাবে। এমন খবরে ব্যবসায়ী আম নিয়ে আসেন। তবে নির্দেশনা না থাকলেও তার আমগুলো বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ট্রেনে তুলতে অনুমতি দেয়া হয়।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম জানান, প্রাথমিকভাবে রোববার বনলতা এক্সপ্রেসসহ চারটি ট্রেন চলাচল শুরু হলো। ৩ জুন দ্বিতীয় দফায় কিছু রুটের ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
করোনা ভাইরাস মহামারিতে যাত্রী সুরক্ষার দিক বিবেচনা করে ট্রেনের সব (১০০%) টিকিটই অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।