৪ জুন

আপডেট: জুন ৪, ২০২০, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

৪ জুন ১৯৫৭ : পাকিস্তানের চা বোর্ডে প্রথম বাঙালি চেয়্যারম্যান নিযুক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ৪ জুন ১৯৫৭ থেকে ২৩ অক্টোবর ১৯৫৮ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। তিঁনি তখন মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় ১১১, ১১২, ও ১১৩ নং প্লট (০.৩৭১২ একর জমি) চা বোর্ডের নামে বরাদ্ধ দিয়ে সেখানে চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু চেয়ারম্যান থাকাকালীন চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের কাজ শুরু হয়। এই কাজের শেষ হয় ১৯৫৯ সালে।
মাত্র ১ বছর ৪ মাস চা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা বঙ্গবন্ধু চা শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন, যা পূর্বে কেউ করতে পারে নাই। বঙ্গবন্ধুর সময়োপযোগী কার্যক্রমের ফল চা শিল্প আজও পাচ্ছে। চা শিল্পের উন্নতির পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু চা শ্রমিকদের উন্নয়নের ব্যাপক কাজ করেন।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে চা শ্রমিকদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার প্রদান করেছিলেন।
৪ জুন, ১৯৬৬ : কারগার থেকে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “সকালে বাইরে বসে আছি। একজন লোক, ঝাড়ুদারের কাজ করত, অসুস্থ হয়ে জেল হাসপাতালে গিয়েছিল। হাসপাতাল থেকে এসেই আমার কাছে এল। এসে বললো, “আমাকে আপনি ছেড়ে দেন, আপনি বললেই জেল থেকে বের করে দিবে।” আমি বললাম, “আমি তো তোমার মতো একজন কয়েদি, আমার ক্ষমতা থাকলে আমিই বা জেলে আসব কেন?” সে বলে, “আপনি কলম মাইরা দিলেই কাজ হয়ে যায়।” বললাম, “কলম আছে, কিন্তু মাইরা দিবার ক্ষমতা নাই।” সে কি শোনে, তাকে ছাড়তেই হবে? সে আমাকে বলে, “আমি ১৪/১৫ বৎসর জেল খাটলাম, আমাকে ছাড়ছে না।”
জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম ৫/৬ বৎসর খেটেছে। মাথা একটু খারাপ আছে। প্রথমে ফাঁসির হুকুম হয়েছিল, পরে বিশ বৎসর সাজা দেওয়া হয়েছে। বাবা ছোটকালে মারা গেছে। মা জেলে আসার পরে মারা গেছে। দিনভর নামাজ পড়ে, আর সকলকে দোয়া করে। সকলেই ওকে ক্ষেপায়, কিন্তু ও ক্ষেপে না, আস্তে আস্তে কথাগুলি বলে। সাজা কত খেটেছে সেটা ঠিক মতো উঠায় নাই। সময় পেলেই আমার কাছে আসে, আর ঐ এক কথা। পরে বুঝলাম অন্যান্য কয়েদিরা ওকে ফুসলায়, ‘সাহেবকে ধর, ভাল করে ধর, খালাস হয়ে যাবি।’ শুধু কি কয়েদিরা, সিপাই, জমাদারও ওকে বলে, যাও শীঘ্র ঐ সাহেবের (আমার) কাছে, কাজ হয়ে যাবে। আর যায় কোথায়! এসে হাজির! ওকে আর বুঝাইয়া লাভ নাই কারণ ও বুঝবে না।
[সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা নং – ৬০-৬৩]
৪ জুন ১৯৭০ : সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে মতিঝিল ইডেন হোটেল প্রাঙ্গনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের অষ্টম কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও তাজউদ্দিন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত হন।
৪ জুন ২০১৬: শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংসদের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া বাংলাদেশ সফরে আসেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘পরবর্তী প্রজন্ম চিরতরে তাঁর নাম স্মরণ করবে।’