৫০ টেস্ট খেলা নিয়ে সন্দেহ জেগেছিল তামিমের!

আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০১৭, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


অনুশীলনে কোচ হাথুরুসিংহের সঙ্গে কথা বলছেন তামিম। ছবি-বিসিবি

মাঠের ভেতরে দুজনে বাংলাদেশ দলের বড় ভরসা, মাঠের বাইরেও গভীর বন্ধুত্ব দুজনের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাছাকাছি সময়ে অভিষিক্ত তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান দারুণ এক মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছেন একসঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রবিবার শুরু হতে যাওয়া মিরপুর টেস্ট হবে দুই বন্ধুর ৫০তম টেস্ট। অর্জনটা স্মরণীয় করে রাখার সংকল্প তামিমের। যদিও একসময় নিজেই সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন এই মাইলফলক নিয়ে।
শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে ভালো খেলার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠলো বাংলাদেশের তারকা ওপেনারের কণ্ঠে, ‘৫০ টেস্ট খেলা অবশ্যই বিশেষ ঘটনা, তবে এ নিয়ে আমার মধ্যে বাড়তি রোমাঞ্চ নেই। যদিও লক্ষ্য থাকবে পারফরম্যান্স দিয়ে ম্যাচটাকে স্মরণীয় করে রাখার।’
টেস্ট-ওয়ানডে দুটোতেই বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান ও সেঞ্চুরির মালিক বেশ দেরিতেই ছুঁতে যাচ্ছেন মাইলফলকটা। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তামিমের। প্রায় ১০ বছরে তার টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা ৪৯। অথচ তামিমের সাড়ে তিন বছর পর শুরু করে বিরাট কোহলি খেলে ফেলেছেন ৬০টি টেস্ট! শুধু ভারতের অধিনায়ক নয়, অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের অধিনায়কের চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশের সহঅধিনায়ক। তামিমের আড়াই বছর পর অভিষেক হলেও মিরপুরে ৫৫তম টেস্ট খেলতে নামছেন স্টিভেন স্মিথ। অন্যদিকে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে অভিষিক্ত জো রুট হেডিংলিতে খেলছেন ৫৯তম টেস্ট।
অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা ভারতের মতো টেস্ট খেলার সুযোগ হয় না বাংলাদেশের। তাই তামিম ৫০ টেস্টের মাইলফলক স্পর্শ করছেন এত দেরিতে। তিনি নিজে অবশ্য এ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন একসময়, ‘যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করি, তখন শুধু লক্ষ্য ছিল যতটা দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের হয়ে খেলার। এক সময় অবশ্য ৫০ টেস্ট খেলতে পারবো কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল আমার মনে। এখন আমাদের ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে, আগের চেয়ে টেস্ট বেশি খেলছি। তাই সাম্প্রতিক সময়ে যাদের অভিষেক হচ্ছে, তাদের পক্ষে লক্ষ্য নির্ধারণ করা সহজ।’
মাইলফলক টেস্টে দুই বন্ধু একসঙ্গে জ্বলে উঠে বাংলাদেশকে স্মরণীয় জয় উপহার দিতে পারবেন? সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নে তামিমের সপ্রতিভ জবাব, ‘বাংলাদেশ দল এখন ১১ জনের পারফরম্যান্সের ওপরেই নির্ভর করে। সবাই ভালো খেললে অবশ্যই জয়ের সুযোগ তৈরি হবে। আমি আর সাকিব ৫০তম টেস্ট খেলতে যাচ্ছি। ফল পক্ষে না এলে দিন শেষে এটা শুধুই একটা নম্বর হয়ে থাকবে। আমি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো, সাকিবও তা-ই।’
তামিমের বিশ্বাস, নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে অচিরেই ওয়ানডের মতো টেস্টেও শক্তিশালী দল হয়ে উঠবে বাংলাদেশ, ‘গত দু বছরে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। আগামী এক বছরে আমরা ৬-৭টা টেস্ট খেলবো। এটা একটা ইতিবাচক লক্ষণ। আমার মনে হয়, নিয়মিত খেলতে পারলে আগামী দেড় বছরেই ভালো টেস্ট দল হয়ে উঠতে পারবো আমরা।’
বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলার ‘হাফসেঞ্চুরি’ করতে পেরেছেন তিনজন। ৬১ টেস্ট খেলে তালিকায় সবার ওপরে মোহাম্মদ আশরাফুল। বর্তমান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম মিরপুরে নামবেন ৫৫ নম্বর টেস্টে। আর ‘মিস্টার ফিফটি’ নামে একসময় পরিচিতি পাওয়া সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের ক্যারিয়ার থেমেছে ঠিক ৫০ টেস্টে!-বাংলা ট্রিবিউন