৫৩ হাজার ৩৪০ গৃহহীন পেলেন স্থায়ী ঠাঁই রাজশাহী অঞ্চলে ৩ হাজার ৮০৭টি ঘর হস্তান্তর

আপডেট: জুন ২০, ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর পবা ও তানোরে পৃথকভাবে ঘর হস্তান্তর করেন সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দীন ও জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের গৃহনির্মাণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে রাজশাহীসহ সারাদেশের ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবারে দিন বদলের হাসি ফুটলো। আর স্বপ্নের এই ঘর পেয়ে এসব ভূমিহীন মানুষগুলো বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। নিজের ঘর না থাকায় যন্ত্রণার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঘর পাওয়ার আনন্দ প্রকাশ করে এসব ভূমিহীন মানুষগুলো বলছেন, এখন আর উচ্ছেদ আতঙ্গে দিন কাটাতে হবে না তাদের। মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সেই দূর্দিন ঘুচিয়ে দিলেন। সৃষ্টিকতা তাকে দীর্ঘায়ু দান করুক।
‘বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ২য় পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে জমিসহ গৃহ প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২য় পর্যায়ে রাজশাহী জেলায় ঘর পেয়েছেন ৮৫৪টি গৃহহীন পরিবার, নওগাঁয় ৫০২ টি, নাটোর ১ হাজার ৩৮১ টি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ হাজার ৭০টি।
রাজশাহী জেলার পবা উপজেলায় ৫০টি, মোহনপুরে ৫০টি, গোদাগাড়িতে ৪০৩টি, তানোরে ১০৫টি, পুঠিয়ায় ১১০টি, দুর্গাপুরে ১৪টি, চারঘাটে ১০টি, বাঘায় ৩৫টি ও বাগমারায় ৭৭টি। এরআগে প্রথম পর্যায়ে রাজশাহী জেলায় ৬৯২টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
নওগাঁর সদর উপজেলায় ১০টি, বদলগাছী ৯টি, মহাদেবপুর ৭৬টি, আত্রাই ১০টি, রানীনগর ৩৩টি, মান্দা ২১টি, পত্নীতলা ১১৭টি, ধামইরহাটে ২০টি, পোরশা ৭১টি, নিয়ামতপুরে ৭৫টি, সাপাহারে ৬০টি পরিবারকে ঘর প্রদান করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩০৮ টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৩০০ টি, নাচোল উপজেলায় ৩০০ টি, ভোলাহাট উপজেলায় ৪১১টি ঘর প্রদান করা হয়।
পবা: প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন শেষে রোববার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শিমুল আকতার এর সভাপতিত্বে উপজেলা হলরুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৫০টি পরিবারকে নিজ হাতে জমিসহ গৃহ প্রদান করেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়েন উদ্দিন।
পবায় ৫০টি ঘরের মধ্যে দর্শনপাড়া ইউনিয়নে ১৭টি এরমধ্যে ১৫টি আদিবাসী, বড়গাছী ইউনিয়নে ১৮টি এবং হড়গ্রাম ইউনিয়নে ১৩টি পরিবারের মধ্যে এই গৃহ প্রদান করা হয়। গৃহে ২ টি শয়ন কক্ষ, ১ টি টয়লেট, রান্নাঘর, কমনস্পেস ও ১ টি বারান্দা রয়েছে।
পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পবা উপজেলা পরিষদের পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজিয়া বেগম, দর্শনপাড়া ইউনিয়র পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও বড়গাছী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল রানাসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়েন উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ও পৃথিবীর ইতিহাসে কোন সরকার প্রধান ভূমিহীনদের কথা চিন্তা করে। এই ধরনের মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেন নায়। যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিয়েছেন। তিনি সারাদেশে অসহায় গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ২য় পর্যায়ে এককালীন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৫৪ হাজার ৩৪০ টি গৃহ প্রদান করলেন।
তিনি আরও জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুজিব বর্ষে বাংলাদেশ একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামীতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। দেশের এই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলকে পুনরায় ভোট প্রদান করে জয়যুক্ত করার জন্য উপস্থিত জনগনকে আহ্বান জানান সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শিমুল আকতার জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় পবা উপজেলায় ২য় পর্যায়ে ৫০ টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর হস্তান্তর হলো। প্রতিটি ঘর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। পবায় ভাল মানের ঘর তৈরি করতে সর্বদা সহযোগিতা করেছেন সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী সকল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) তার টিম নিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করে খাস জমির সন্ধান ও উদ্ধার এবং সেই স্থানে ঘর স্থাপনের সকল ব্যবস্থা করেছেন। শুধু তাই নয় জমির দলিল তৈরি, রেজিস্ট্রিকরণ ও নামজারী তিনিই করেছেন। এজন্য তিনি এসিল্যান্ডকেও ধন্যবাদ জানান। আগামীতে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পবা উপজেলায় যত খাস জমি আছে সেগুলো উদ্ধার করে ভূমিহীনদের মধ্যে প্রদান এবং সেখানে ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শিমুল আকতার।
হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়ীপাড়া এলাকায় ঘরপ্রাপ্ত আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি রেললাইনের ধারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতেন। অনেক সময় রেল কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ করে দিতো। তখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি বিপদে পড়তেন। এখন তিনি হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়ীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়েছেন। এতে তিনি অত্যন্ত খুশি। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ্যায়ু কামনা করেন এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আগামীতে ভোট প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করার জন্য সকলকে আহ্বান জানান।
আরেকজন ঘরপ্রাপ্ত লুৎফা বেগম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ খাস জমিতে বসবাস করছেন। সব সময় উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাতেন। কিন্তু আজকে থেকে আর তাকে কেউ উচ্ছেদ করতে পারবেনা। কারণ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে এককালীন জমিসহ ঘর দিয়েছেন। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ্যায়ু কামনা করেন।
এ ঘর পেয়ে এক গৃহহীন পরিবার মহা খুশি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এতদিন গৃহহীন অবস্থায় অনেক কষ্ট করে রেলস্টেশনে পাশে বসবাস করছিলাম। আজকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ জমিসহ বাড়ির দলিল হাতে পেলাম, সত্যিই যেন একটি স্বপ্নের মত আশ্রয়স্থল খুঁজে পেলাম।
আর একজন আদিবাসী সুবিধাভোগী জানান, আমি সরকারি জমিতে ছোট্ট কুফরিতে থাকতাম। দিনের বেলায় টিনের ফুটা দিয়ে সূর্যের আলো ঢুকতো ও বৃষ্টি হলে পানিতে ভিজে দিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মা বিনা খরচে একটি স্বপ্নের পাকা বাড়ি দিয়েছেন। এটা আমার কাছে স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে। আমি শেখ হাসিনা মায়ের জন্য দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি, তিনি যেন মাকে দীর্ঘজীবী করেন।
তানোর : তানোরে রোববার সকাল ১০ টায় তানোর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে গৃহহীনদের ঘর প্রদান উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল জলিল। তিনি উপকারভোগী গৃহহীনদের হাতে জমির দলিল ও ঘরের চাবি তুলে দেন।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পংকজ চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নজরুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক।
তানোর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না, ভাইস চেয়ারম্যান আবু বাক্কার, নারী ভাইস চেয়ারম্যান সোনিয়া সরদার, তানোর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম, তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান, তানোর পৌর মেয়র ইমরুল হক, মুন্ডমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, তানোর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা (টিএইচও) বার্নাবাস হাসদাক, তানোর সাব রেজিষ্টার রওশন আরাসহ ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।
পুঠিয়া: রাজশাহীর পুঠিয়ায় ১১০ টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। ২য় পর্যায় এর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোবিবার সকালে সরাদেশের সাথে রাজশাহী পুঠিয়ায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা সম্মেলন কেন্দ্রে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. আব্দুল মান্নান, পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জি.এম হিরা বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা আফরোজ, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সরোয়ারর্দী, পুঠিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ খান প্রমুখ।
চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ১০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে নতুন ঘরের চাবি ও বন্দোবস্তকৃত জমির দলিল তুলে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম। রোববার সকালে উপজেলা হলরুমে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্প দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণে গ্রামীণ অবকাঠামো কাবিটা কর্মসূচির আওতার ২য় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে হস্তান্তরের সূচনা করা হয়েছে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রকৃত ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের নির্মিত এই ঘরগুলোর দলিল তুলে দেয়া হয়।
উপজেলার সরদহ ইউনিয়নে ৬ টি, ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নে ২টি, ইউসুফপুর ইউনিয়নে ১টি, শলুয়া ইউনিয়নে ১টি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত পরিবারদের পুর্নবাসনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ২ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে এই জমির উপর পাকা ঘর তৈরি করা হয়েছে। এদিকে সরদহ ইউনিয়নের দুই প্রতিবন্ধী বাবু আলী তার স্ত্রী মাসুদা বেগম ঘর পেয়ে আমরা খুশি, শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র একরামুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, ভাইস-চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বিপ্লব, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান তাজমিরা খাতুন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকারভোগীরা।
বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারায় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ৭৭ জন গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে ৭৭ জন গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে গৃহ ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে মুঠোফোনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল মুমীত এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাগমারা থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ, কৃষি অফিসার রাজিবুর রহমান, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুল মালেক মন্ডল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সারওয়ার আবুল। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মহাদেবপুর : নওগাঁর মহাদেবপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম ২য় পর্যায় এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সকালে উপজেলা অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনের পর স্থানীয়ভাবে প্রধান অতিথি হিসেবে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদার সেলিম সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঘরের চাবি ও নামজারি জমির কাগজপত্র তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আহসান হাবীব ভোদন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা খাতুন, মহাদেবপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা পদিষদ ভাইস চেয়ারম্যান অনুকুল চন্দ্র সাহা বুদু ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া রহমান পলি, উপজেলা কৃষি অফিসার অরুন চন্দ্র রায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মুলতান হোসেন, উপজেলা সমাজ বেসা অফিসার জাহাঙ্গীর আরিফ প্রামানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম ২য় পর্যায় এ উপজেলার রোদইল মৌজায় ৩৩টি ও খাঁপুর মৌজায় ৩৪টি এবং বাগধানা মৌজায় ৯টি সর্বমোট ৭৬টি ঘরবাড়ির চাবি ও নামজারি জমির কাগজপত্র প্রদান করা হয়।
প্রতিটি বাড়িতে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যায়ে ২টি শোবার ঘর, ১টি রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট-বাথরুম ও ১টি বারান্দাসহ রঙিন টিনের ছাউনি দ্বারা এসব ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরবাড়িতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের জন্য ৫টি দরজা ও ৫টি জানালা রয়েছে।
বাঘা: জমি, ঘর কিছুই ছিলনা। কখনো ভাবতেই পারেনি, এমন পাঁকা ঘর পাবো। জমিসহ ঘরের কাগজপত্র হাতে পেয়ে হাসিমুখে এমন কথা জানালেন-উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মনোয়ারা বেগম ও কুলসুম বেগম।
মুজিববর্ষে মাননীয় ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার’ হিসেবে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় বাঘা উপজেলায় ৩৫টি পাঁকা ঘর পেয়েছে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার। রোববার (২০ জুন) সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে দেশব্যাপি দ্বিতীয় পর্যায়ের গৃহ হস্তান্তরের উদ্বোধন শেষে তাদের জমির কাগজপত্রসহ ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরে ব্যয় করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. রাসেদ আহমেদ, ওসি নজরুল ইসলাম, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্টু, অধ্যক্ষ নছিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদ সাদিক কবির, আ’লীগ নেতা মাসুদ রানা তিলুসহ আওয়ামীলগের স্থানীয় নের্তৃবর্গ, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগনসহ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার।
বাঘার পদ্মার চরের লাইলী বেগম বলেন, কোনোদিন ভাবিনি আমার নিজের একটি পাকা ঘর হবে। পরিবার নিয়ে এক সাথে থাকবো। সত্যিই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আমাদের মতো গরিবদের নিয়া ভাবেন। নতুন একটি ঠিকানা পেয়ে আমি অত্যান্ত খুশি হয়েছি। দুই বছর পূর্বে আমার পদ্মার ভাঙ্গনে বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। সেই থেকে আমি কখনো মেয়ে-জামাই, আবার কখনো-কখনো অন্যার বাড়িতে থাকতাম। শুধু আমি না আমার মতো আরো ৩৫ জন পেয়েছে পাঁক ঘর ও জমি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা জানান, মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দ্বিতীয় পর্যায়ের গৃহ ও ভূমিহীনদের নিকট ৩৫টি পাঁকাঘর ও কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে উপজেলায় ১৬ পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি ঘরে ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা।
নাটোর: নাটোরের লালপুরের ৫০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়েছে। রোববার (২০ জুন ২০২১) সকাল ১০ টার সময় একযোগে এ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত জমি ও ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল ইসলাম, গোপালপুর পৌরসভার মেয়র রোকসানা মোর্ত্তুজা লিলি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার সা’দ আহমাদ শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইস্কান্দার মির্জা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ স ম মাহমুদুল হক মুকুল, আলাউদ্দীন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল বাশার ভাদু, সদস্য ফিরোজ আল হক ভুইয়া, গোপালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারন সম্পাদক রোকনুল ইসলাম লুলু, লালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাঘা, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা কনক, ওয়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী, আড়বাব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মোল্লাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মী, উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও উপকারভোগী পরিবারের সদস্য।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ হাজার ৭০ টি পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় দ্বিতীয় দফায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩০৮ টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৩০০ টি, নাচোল উপজেলায় ৩০০ টি, ভোলাহাট উপজেলায় ৪১১টি গৃহ বরাদ্দ দেয়া হয়। সর্বমোট ১ হাজার ৪১৯ টি গৃহ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে থেকে ১ হাজার ৭০ টি গৃহ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ উপকারভোগীদের হাতে কবুলিয়াত দলিল তুলে দেন। তাদেরকে গ্রামীণ ঐতিহ্য মাটির হাড়িতে করে মিষ্টি উপহার দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এনামুল হক, পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদ, সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকিউল ইসলাম. সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩’শ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পাঁকা বাড়ি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এসব বাড়ি উপহার দেয়া হয়। রোববার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব গৃহ হস্তাস্তরের উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৭৩৭টি বাড়ি প্রদান করা হয়। রোববার দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৩০০ মিলে মোট ১ হাজার ৩৭টি বাড়ি প্রদান করা হলো। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গৃহহীনদের নিকট জমির দলিল তুলে দেন সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল-রাব্বি এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস ও এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী হারুন অর-রশিদসহ সরকারি কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ