৫৭৮ দিন পর খুললো রাবির হল : উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২১, ১০:১৫ অপরাহ্ণ


রাবি প্রতিবেদক:


হলের মূল ফটকে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পরে দেখা হওয়ায় কুশল বিনিময় করছে একে অপরের সঙ্গে। প্রায় ৫৭৮ দিন পর হল প্রাঙ্গণে তাদের পদচারণা। কাগজপত্র জমা দিয়ে চিরচেনা হলে প্রবেশ করছেন তারা। প্রবেশের সময় সবার হাতে হাতে দেয়া হচ্ছে একটি করে লাল গোলাপ, মাস্ক ও চকলেট। এ যেন অন্য রকম নবীনবরণ। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার মূহুর্তের কথা। গতকাল রোববার (১৭ অক্টোবর) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এমন চিত্র দেখা মিলেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এদিন সকাল থেকে এমনভাবেই বরণ করে নেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল সকাল ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সতেরটি আবাসিক হল খুলে দেয়া হয়েছে। হলের বৈধ শিক্ষার্থীরা আবাসিকতার কার্ড এবং করোনা টিকার প্রমাণপত্রের দুটি ফটোকপি জমা দিয়ে হলে প্রবেশ করেছে।

কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আসিফ হাসান বিজয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, বেশ আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমাদের হল কর্তৃপক্ষ বরণ করে নিয়েছে। দীর্ঘদিন পরে চিরচেনা হলে ফিরতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শামীম রেজার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলে ফেরায় আজকের অনুভূতিটা অন্যরকম। হলের সব বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। বেশ আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমাদের হল কর্তৃপক্ষ বরণ করে নিয়েছে। দীর্ঘদিন পরে চিরচেনা হলে ফিরতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী কানিজ রাজিয়া কথা বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলে ফিরতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। হলের পরিচিত আপুদের সাথে দীর্ঘদিন পরে দেখা হচ্ছে। সবমিলিয়ে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সুজন সেন বলেন, সকাল থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের ফুল, চকলেট এবং মাস্ক দিয়ে বরণ করে নিয়েছি। আমার হলের ৫৯৮ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় দুই’শ আবাসিক শিক্ষার্থী হলে প্রবেশ করেছে। হলে প্রবেশের পরে শিক্ষার্থীরা রুমে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তা দ্রুত সমাধানে আমরা তৎপর রয়েছি।

বেগম রোকেয়া হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোবাররা সিদ্দিকা বলেন, শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই হলে প্রবেশ করছে৷ শিক্ষার্থীরাই হলের প্রাণ। তারা হলে ফেরাতে আমাদের নিজেরও ভালো লাগছে। শিক্ষার্থীদের রুম দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ভিতরে ময়লা জমে থাকাটাই স্বাভাবিক। আমি হলের আয়াদের বলে রাখছি শিক্ষার্থীদের রুম পরিষ্কারে সহযোগিতা করতে। এছাড়া যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমরা সচেষ্ট আছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ ও প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. জুলকার নায়েন বলেন, সকাল থেকেই বেশ আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করেছে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রতিটি হলে আইসোলেশন রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জোহা হলেও তিন শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন রুম তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য হল ক্যান্টিন চালু হয়েছে। আগামীকাল সোমবার থেকে ডাইনিং চালু হবে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় উপচার্যসহ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো পরিদর্শন করেছি। আমাদের প্রত্যাশা মতো শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অন্তত এক ডোজ করোনা টিকা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে হলে প্রবেশ করেছে। যেসকল শিক্ষার্থী এর আগে টিকা নেয়নি আমরা তাদের জন্য টিএসসিসি’তে ২০হাজার টিকার ব্যবস্থা করেছি। ফলে শিক্ষার্থীরা সেখানে টিকা নিয়ে হলে প্রবেশ করতে পারছে। সেখানে দ্বিতীয় ডোজ টিকাও দেওয়া হচ্ছে। হল খোলার সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল কর্তৃপক্ষ এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করছি।