৬ জুন

আপডেট: জুন ৬, ২০২০, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

৬ জুন, ১৯৬৬ : এদিন বঙ্গবন্ধু তাঁর ডায়রির পাতায় লিছেনÑ “আগামীকাল ধর্মঘট। পূর্ব বাংলার জনগণকে আমি জানি, হরতাল তারা করবে। রাজবন্দিদের মুক্তি তারা চাইবে। ছয়দফা সমর্থন করবে। তবে মোনায়েম খান সাহেব যেভাবে উস্কানি দিতেছেন তাতে গোলমাল বাঁধাবার চেষ্টা যে তিনি করছেন এটা বুঝতে পারছি। জনসমর্থন যে তার সরকারের নাই তা তিনি বুঝেও, বোঝেন না।
ঘরে এসে বই পড়তে শুরু করে আবার মনটা চঞ্চল হয়ে যায়, আবার বাইরে যাই- কেবল একই চিন্তা! এইভাবে সারা সকালটা কেটে গেল। খাওয়া-দাওয়া কোনোদিকেই আমার নজর নাই। ভালও লাগছে না কিছুই। যা হোক দুপুর বেলা খাওয়ার পূর্বেই কাগজগুলি এল।
ধরপাকড় চলছে সমানে। কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। যশোর আওয়ামী লীগ অফিস তল্লাশি করেছে। ভূতপূর্ব মন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা জনাব মশিয়ুর রহমান প্রতিবাদ করেছেন। জনাব নূরুল আমীন সাহেব আওয়ামী লীগ কর্মী ও নেতাদের গ্রেপ্তারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘শত্রুবিনাশের জন্য রচিত আইনে দেশবরেণ্য নেতবৃন্দের গ্রেপ্তার দেশবাসীকে স্তম্ভিত করিয়াছে।’ ঢাকার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্যরা এক যুক্ত বিবৃতিতে আমাকে সহ সকল রাজবন্দির মুক্তি দাবি করিয়াছে, আর ৬ দফার দাবিকে সমর্থন করিয়াছে এবং জনগণকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানাইয়াছে। … [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা নং – ৬৭]
৬ জুন ১৯৭০ : মতিঝিলের হোটেল ইডেনে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল বসে। কাউন্সিলে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি কাজী ফয়েজ মোহাম্মদ, মাস্টার খান ডন, ব্যারিস্টার বরকত খান, সাধারণ সম্পাদক এএইচএম কামারুজ্জামান এবং যুগ্ম সম্পাদক পদে মোহাম্মদ খান রাইসানি নির্বাচিত হন।
৬ জুন ১৯৭৫ : বঙ্গবন্ধু সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী মহলকে ঐক্যবদ্ধ করে এক মঞ্চ তৈরি করেন, যার নাম দেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)। বঙ্গবন্ধু এইদিনে বাকশালের কার্যনির্বাহী ও কেন্দ্রীয় কমিটি এবং গঠনতন্ত্র ঘোষণা করেন।
১৯৭৫ সালের ৬ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গঠণতন্ত্র এবং জাতীয় দলের পাঁচটি ফ্রন্ট ঘোষণা করেছিলেন।