৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় প্রেমের টানে নাটোরে এলেন চিনা যুবক, বিয়ে করলেন মুসলিম নারীকে

আপডেট: জুন ২৩, ২০২৪, ১:৩০ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি :


দু’টি বর্ণ সমন্বয়ে একটি শব্দ প্রেম। কবিতার মত উপভোগ্য, নীলিমার মত প্রশান্ত, সুরের মত গহীন, চুম্বকের মত আকর্ষক, মানে না বাঁধা, মানে না বৈষম্য। যে একবার ডুবেছে সেই তো প্রেমের স্বাদ বুঝে। প্রেম শ্বাশ্বত, সুন্দর, চিরন্তন, অনির্বাণ, অবিনশ্বর ও সংজ্ঞাহীন। প্রেম-প্রীতি আছে বলে শত ঝড় ঝঞ্ঝার মাঝেও মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবার প্রবল ক্ষমতা পায় মানুষ।

প্রেম এ দু’টি বর্ণ সমষ্টি একটি শব্দ দিয়ে কখনো সংজ্ঞায়িত করা যায় না। মন আর অনুভবের মাঝেই এর অস্তিত্ব বিরাজমান। প্রেম থাকে ঘুমন্ত, এটি জাগ্রত হয়ে উঠে হৃদয়ের আকুল আহ্বানে। প্রেম প্রতিপক্ষকে দেয় তৃপ্তি। প্রেম ভোগের নয়, উপলব্ধির। হীন স্বার্থ চরিতার্থে প্রেমের শেষ হয়। হাসি-কান্না,আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, মান-অভিমান, মিশ্রিত প্রেম এক স্বর্গীয় অনুভূতি।

এবার হৃদয়ের আকুল আহ্বানে সারা দিয়ে নাটোরে আলোচনায় এসেছে চিনা এক যুবক। গত ৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ¥ীপুর খোলাবাড়িয়া বড়বাড়িয়া এলাকার ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে পরিচয় হয় চিনা নাগরিক লি সি জাংয়ের।

ধীরে ধীরে সেই পরিচয় থেকে হয় সম্পর্ক। এর পর সম্পর্ক থেকে রূপ নেয় প্রেমে।পরে চিনা যুবক প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে মুসলিম রীতি মেনে ফাতেমা খাতুনকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) নাটোর সদর লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া বড়বাড়িয়া এলাকায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ফাতেমাকে বিয়ে করেন। এ সময় নিজের নাম পরিবর্তন করে আলী রাখেন এ চিনা যুবক। এর আগে বুধবার (১৯ জুন) বিকেলে নাটোর সদর উপজেলার ৪নম্বর লক্ষ¥ীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামে ফাতেমার বাড়িতে আসেন।

ফাতেমা খাতুন নাটোর সদর উপজেলার লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামের আবু তাহেরের মেয়ে। তিনি নবাব সিরাজ উদ দ্দৌলা সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী।

চিনা যুবক লি সি জাং (আলী) চিনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা এবং তিনি একজন প্লাস্টিক সার্জন বলে জানা গেছে।
ফাতেমার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার নাটোর সদর উপজেলার লক্ষিপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামে আসেন চিনা যুবক লি সি জাং।

এসময় তাকে দেখে ভিড় করেন উচ্ছুক জনতা। এরপর বৃহস্পতিবার প্রেমিকা ফাতেমার বাড়িতে এসে বৌদ্ধ ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপর পরিবারের সম্মতিক্রমে ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে মুসলিম রীতি অনুসাওে ফাতেমা খাতুনকে বিয়ে করেন।

এব্যাপরে ফাতেমা খাতুন বলেন, আমাদের প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয়। তারপর দুজনের মধ্য সম্পর্কে প্রেমে পরিণিত হয়। সে আমার জন্য বাংলাদেশে আসেন। সে আমাকে ভালোবেসে মুসলিম রীতি মেনে বিয়ে করেছেন। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমরা দুজন যেন সুখে সংসার করতে পারি।

চিনা যুবক লি সি জাং (আলী) বলেন, ভালোবেসে চিন থেকে বাংলাদেশে এসেছি। আমি ফাতেমাকে বিয়ে করতে পেরে অনেক খুশি। আমরা সারাজীবন একসঙ্গে থাকতে চাই। দোয়া করবেন আমাদের জন্য সবাই।

এবিষয় লক্ষ¥ীপুর-খোলাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালু জানান, তাদের দুজনের পরিচয় হয়। এরপর প্রেমের সম্পর্কের গড়ে উঠে। পরে ওই চিনা যুবক বুধবার নাটোরে আমাদের ইউনিয়নের আসেন। পরে মেয়ের পরিবারের সম্মতিতে মুসলিম নিয়ম মেনে ফাতেমাকে বিয়ে করেছেন। তাদের বিয়েতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নতুন দম্পতির জন্য দোয়া ও ভালোবাসা রইলো।