৭০০ কোটির আর্থিক কেলেঙ্কারি, ‘এ’ গ্রেড হারাচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৭, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ন্যাকের ভয়৷ প্রায় ‘নাকের জলে চোখের জলে’ অবস্থা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের৷ কিছুদিন আগে ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (ন্যাক) পরিদর্শন করে গিয়েছে৷ কয়েকদিনের মধ্যে নয়া গ্রেডেশন জানাবে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন এই সংস্থা৷ এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেড ‘এ’৷ কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা এই মান এবার নেমে যেতে পারে৷ ‘এ’-এর থেকে নিচে কোনও গ্রেড পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তা যে সর্বাধিক কলঙ্কজনক হবে তা বলাই বাহুল্য৷ কিন্তু কেন নেমে যেতে পারে সার্ধ শতবর্ষ প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান৷
উত্তর অনেক৷ ন্যাকের প্রতিনিধিরা কলকাতায় এসে জানতে পেরেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন কুঠরি থেকে ৭০০ কোটিরও বেশি টাকার স্থায়ী আমানত উদ্ধার হয়েছে৷ বিপুল টাকার সুদ গায়েব৷ দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হয়েছেন ফিনান্স অফিসার৷ ওই বিপুল পরিমাণ টাকা যে বেআইনি পদ্ধতিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তা বলে দিতে হয়নি কাউকে৷ কেন্দ্রীয় সরকার অধীনস্থ সংস্থার সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাস ঘুরে তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন৷ তাঁরা দেখেছেন, বাহ্যিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় সাজানো হয়েছে৷ কিন্তু শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার এমনকী শৌচাগারের অবস্থা শোচনীয়৷ তবে আশার কথা একটাই, ন্যাকের তরফে কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটির প্রশংসা করা হয়েছে৷
ন্যাক সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের প্রতি তাঁরা অখুশি৷ কোনও প্রশ্নের উত্তরেই খুশি হতে পারেননি ন্যাক সদস্যরা৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনর্মূল্যায়নের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে৷ প্রসঙ্গত, ন্যাকের তরফে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বি’ অথবা ‘বি প্লাস’ গ্রেড দেয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ এক্ষেত্রে আইনত ফের মূল্যায়নের দাবি করা যায়৷ সেইমতো তৈরি আছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ পছন্দমতো গ্রেড না পেলে ন্যাকের দফতরে ফের পরিদর্শনের অনুরোধ জানানো হবে৷ তবে উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ অবশ্য এ প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাননি৷ ন্যাকের গ্রেডেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেখা যাক কী হয়৷ এখনও ন্যাকের তরফে কিছু জানানো হয়নি৷ দুই এক দিনে আশা করছি জেনে যাব৷ তারপর যা বলার বলব৷”
উপাচার্য সমস্যার কথাও জেনেছেন ন্যাকের প্রতিনিধিরা৷ আশুতোষবাবু নিজে অস্থায়ী দায়িত্বে৷ তাঁর আগে টানা একবছর ধরে অস্থায়ী উপাচার্যের দায়িত্ব ছিল সুগত মারজিতের হাতে৷ তার আগে স্থায়ী উপাচার্য ছিলেন সুরঞ্জন দাশ৷ তিনি এখন যাদবপুরের দায়িত্বে৷ ২০১৫ সালের পর থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও স্থায়ী উপাচার্য নেই৷ ন্যাকের মতে, এত প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য না থাকলে খুব সমস্যা৷ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হতে পারে৷ এক আধিকারিকের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এখন আন্দোলন করছে রাজ্য সরকার৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অবস্থার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷ প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চশিক্ষায় সরাসরি প্রভাব খাটানোর ভূরি ভূরি অভিযোগ আছে৷ কলকাতার কপালে কী আছে তা জানতে আর কয়েকদিনের অপেক্ষা৷- সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ