৭ আগস্ট থেকে গণটিকা কার্যক্রম শুরু / জেলা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পরিচয়পত্র দিয়েই টিকা নেয়া যাবে

আপডেট: আগস্ট ২, ২০২১, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সারা দেশের মত রাজশাহীতেও ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত গণটিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। রাজশাহী মহানগরীসহ জেলার প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৮ বছরের উর্ধ ব্যক্তিদের টিকা প্রদান করা হবে। টিকা কার্যক্রম সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। টিকা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিয়েই টিকা নেয়া যাবে।
রোববার (১ আগস্ট) সকালে জেলা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কমিটির ভারচুয়াল সভায় এ তথ্য জানান হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।
আলোচনায় অংশ নেন, রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শাহানা আখতার জাহান, বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান অনিল কুমার সরকার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নাসিম আখতার, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বেগম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহমেদ, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহসীন মৃধা, চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা, কাঁকনহাট পৌর চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, পুঠিয়ার শিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল, পবার হড়গ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, দুর্গাপুরের জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান শমশের আলী প্রমুখ।
সভায় বলা হয়, জাতীয়ভাবেই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। সকলকে মিলে একসাথে গণটিকা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা স্বাস্থ্য বিভাগ বা সরকারের কোনো কর্মসূচি নয়Ñ দেশবাসীকেই এই কর্মযজ্ঞে সক্রিয় অংশ নিতে হবে।
সভা থেকে জানান হয়,৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত গণটিকা কার্যক্রমের শুরু হতে যাচ্ছে। এই কার্যক্রম সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং একই ভাবে পৌরসভাগুলোতে একই ভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে স্থানীয় কমিটি টিকাকরণের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণ করতে পারবেন।
সভায় দায়িত্বশীলরা জানান, গণটিকা কার্যক্রমের এই পর্যায়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে সাবেক ১ নম্বর ওয়ার্ডে (বর্তমানে ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড) সুবিধাজনক স্থানে প্রাথমিক বা উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রতি কেন্দ্রে অন্তত তিন দিন টিকা প্রদান করা হবে। প্রয়োজনবোধে চতুর্থদিন টিকা কার্যক্রম চালানো হবে। প্রতি কেন্দ্রে তিনটি বুথ স্থাপন করা হবে। তিনটি বুথের একটি বুথ এলাকার বয়স্ক ও নারীদের জন্য অগ্রাধিকার টিকা প্রদান করা হবে। প্রতি বুথে ২০০ জনকে টিকা দেয়া হবে। তবে ইপিআই কার্যক্রম বলবৎ থাকবে। নির্দিষ্ট দুই দিন ইপিআই কার্যক্রম চলবে। ওই দুদিন টিকা প্রদান কার্যক্রম কর্মসূচি থাকবে না। এ পর্যায়ে যাদের টিকা নেয়া বা দেয়া সম্ভব হবে না তারা পরবর্তী পর্যায়ের টিকা কার্যক্রমে তাদের টিকা প্রদান করা হবে।
টিকা নিতে পূর্ব নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। টিকা নিতে ইচ্ছুকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে কেন্দ্রে যেতে হবে। পরিচয়পত্রে মোবাইল ফোন নম্বর লিখতে হবে। ১৮ বছরের যে কেউ (যাদের পরিচয়পত্র আছে) টিকা নিতে পারবে। গর্ভবর্তী নারী এবং দু বছারের নিচের শিশুর মা আপাতত টিকা নিতে পারবেন না। ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে টিকা নেয়া যাবে।
যারা টিকা নিবেন তাদেরকে কার্ড দেয়া হবে। ওই কার্ডেই লিপিবদ্ধ থাকবে- কোথায়, কীভাবে, কখন দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান করা হবে।
সভায় সিভিল সার্জন জানান, যারা সুরক্ষা আপস-এর রেজিস্ট্রেশন করে অ্যাস্ট্রেজেনিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের অপেক্ষা করতে হবে অ্যাস্ট্রেজেনিকা টিকার জন্য। রাজশাহীতে ওই টিকার সরবরাহ পাওয়া গেলেই দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান করা হবে।