৯৮০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে চালু হলো নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল

আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২২, ১১:০৬ অপরাহ্ণ

মিলের সুগার কেইনে আখ নিক্ষেপ করে এবছরের মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ন

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:


চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৪০ হাজার টন আখ মাড়াই করে ৯ হাজার ৮০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় চালু হলো নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেড।

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডের ৯০তম ২০২২-২৩ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ন।

পরে সুগার কেইন চত্বরে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে সমৃদ্ধির পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিগত দশ বছরে সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু মৌলিক এলাকায় বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। দেশ গড়ার দিকে নজর দিয়ে তিনি চিনি শিল্পকে নতুন করে সাজানোর জন্য জোর দিয়েছেন। চিনি শিল্পের উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, নাটোর-৪ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, নাটোর-১ আসনের সাংসদ শহিদুল ইসলাম বকুল, শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, চিনি শিল্পকে লাভজনক করতে চিনিকলে কর্মরত অতিরিক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা কমানো হবে, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। সরকার কৃষি যান্ত্রিকিকরণের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দূর্নীতি বন্ধ করতে পারলে চিনি শিল্প লাভজনক পর্যায়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে আখের মূল্য ১৪০ থেকে বৃদ্ধি করে ১৮০ টাকা মণ নির্ধারণ করা, যথাসময়ে আখের মূল্য পরিশোধ, আখ চাষে গুণগতমানের সার সরবরাহ করায় ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আখচাষী ইব্রাহিম খলিল, আনসার আলী দুলাল, সুকুমার রায় এবং শ্রমিক নেতা খন্দকার শহিদুল ইসলাম। চিনিকলের উৎপাদন কার্যক্রমকে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দাবী জানান কৃষক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

চিনিকল সূত্রে জানা যায়, এ বছর মিলের নিজস্ব ৫৭৫ একরসহ প্রায় ২৪ হাজার একর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৪৬ কর্মদিবসের লক্ষ্যমাত্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১৭ হাজার ২৮০ মেট্রিকটন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে শতকরা ৭.২ ভাগ। গত মৌসুমে লোকসান হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। মিল এলাকায় প্রতিদিন ১৫৭টি অবৈধ পাওয়ার ক্রাসারে ৬২৮ মেট্রিক টন আখ মাড়াই হচ্ছে। যার ফলে মিলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা রয়েছে।

এবিষয়ে উত্তরবঙ্গ চিনিকল আখচাষি সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও দেরিতে মাড়াই শুরু করায় রবিশস্য আবাদের জন্য জমি তৈরির জন্য চাষিরা অবৈধ ক্রাশারে আখ দিতে বাধ্য হয়েছেন।
মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল আজম বলেন, চলতি রোপন মৌসুমে চাষিদের উৎসাহিত করে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আখ রোপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিলের নিজস্ব খামারগুলো লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। আখ চাষিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে চিনিকলটি আবার লাভের মুখ দেখবে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ