আত্রাইয়ে দুই বছরেও সংস্কার হয় নি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ || আবার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা

আপডেট: জুলাই ১৪, ২০১৭, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

রাণীনগর প্রতিনিধি


গত ২০১৫ সালে পাহাড়ি ঢল আর প্রবল বর্ষণে ফুলবাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই নৌকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা-সোনার দেশ

নওগাঁর আত্রাইয়ে গত ২০১৫ সালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর প্রবল বর্ষণের ফলে উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী ফুলবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার র্দীঘ দুই বছরেও মেরামত করা হয় নি। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলবদ্ধতার শিকার হচ্ছে ফুলবাড়ী ও পূর্বমিরাপুরের অসংখ্য পরিবার। যাতায়াতের জন্য নৌকাই হচ্ছে তাদের এক মাত্র অবলম্বন। বর্তমানে ওই এলাকার হাজার হাজার জনগণ তাদের আবাদি ফসল নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। যে কোন সময় বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ আবার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৫ সালের ২৩ অগাস্ট ভোর রাতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আত্রাইয়ের ফুরবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভাঙার পর মির্জাপুর এলাকার আত্রাই-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে আশেপাশের এলাকার ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেইসঙ্গে এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। এতে আত্রাই-রাণীনগর উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রায় দুই মাস পরে বন্যার পানি নেমে যায়। এদিকে বন্যার পানি শুকিয়ে যাওয়ার দুই বছর হলেও আজও ভাঙন মেরামত করা হয় নি। এ ভাঙন মেরামত না করায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাইপুর, ডাঙ্গাপাড়া, ফুলবাড়ি, উদনপৈয়, মিরাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে সপ্তায় দুইদিন শনিবার ও মঙ্গলবার ভবানীপুর-মির্জাপুর হাটে যাবার জন্য এ পথ ব্যবহার করতে হয়। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এ পথ দিয়েই হাটে বাজারজাত করতে হয়। বন্যায় বাঁধ বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে তারা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছে না। এদিকে এ বাঁধ মেরামত না করার ফলে আগামী বন্যা মৌসুমে আত্রাই-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়ক হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে এলাকার হাজার হাজার কৃষক তাদের আবাদি ফসল নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে মিরাপুর গ্রামের আবদুুল কুদ্দুস জানান, আমরা এ ভাঙন মেরামতের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ অনেকের কাছেই ধর্ণা দিয়েছি। সকলেই আশ্বস্ত করেন। কিন্তু আজও মেরামত না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের আগেই সেখানে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। বর্তমানে বাঁধটি মেরামত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে ফলে আমরা আমাদের কষ্টের ফসল নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছি।
এ ব্যাপারে ভবানীপুর জিএস উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান বলেন, গত ২০১৫ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ফুরবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভাঙার ফলে এ রাস্তার উপর দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীর চলাচল খুবই ঝুুঁকিপূর্ণ। এখন সেখানে নৌকা ছাড়া পারাপার হওয়া যায় না। রাস্তাটি সংস্কার করা অতি জরুরি।
ফুলবাড়ী গ্রামের তরিকুল ইসলাম ইসলাম বলেন, আসন্ন বন্যা মৌসুমের আগে বাঁধটি মেরামত না করার ফলে আমাদের মাঠে কোন আবাদ করতে পারি নি। কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা ও জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। তিনি দ্রুত বাঁধটি নির্মাণের জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, বন্যায় বাঁধটি বিধ্বস্ত হওয়ার ফলে এলাকার জনগণকে দীর্ঘদিন থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বাঁধটি সংস্কার করার জন্য রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।