আবারো সিটি মেয়র পদে আ’লীগের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন খায়রুজ্জামান লিটন

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৭, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ৭ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ের হিসাব কষছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনে পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের নির্বাচনে ৭ সিটির মধ্যে কমপক্ষে ৬টিতে জয় চায় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস বাকি থাকলেও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনে জয় এনে দিতে পারবেন এমন মেয়রপ্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। এই চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক সফল মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ইতোমধ্যে মেয়রপ্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একাধিকসূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থীদের বিষয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপের ভিত্তিতে কোন সিটিতে কাকে মনোনয়ন দিলে ভালো হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছেন। রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পুরনো প্রার্থীরাই এবার লড়বেন মেয়র পদে। বাকি চার সিটিতে নতুন প্রার্থীদের মনোনয়নের পক্ষে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।
আসন্ন সিটি নির্বাচনে রাজশাহীতে আবার দলীয় মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন সাবেক সিটি মেয়র আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সিলেটে সাবেক মেয়র বদরউদ্দীন আহমেদ কামরানের ওপর এবারও আস্থা রাখবে আওয়ামী লীগ। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে বর্তমান মেয়র একরামুল হক টিটু দলীয় মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন। পরিবর্তন আসছে রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও গাজীপুর সিটি করপোরশেনে। এই চার সিটিতে নতুন প্রার্থী মনোনয়নের পক্ষে আওয়ামী লীগ।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, রাজশাহী ও সিলেটে মেয়র থাকাকালীন লিটন এবং কামরান যে উন্নয়নকাজ করেছেন, তাতে নিজ নিজ সিটিতে তাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখনো অন্য যে কারো চেয়ে বেশি। সে কারণে গত নির্বাচনে পরাজিত হলেও আসন্ন নির্বাচনে এ দুজনকেই নৌকা মার্কা দেওয়া হবে। অন্যদিকে ময়মনসিংহে টিটু সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় ও দলের নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার উপহার হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পাবেন।
একই বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, গত সিটি নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের অপপ্রচারে ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু আশা করি এবার ভোটারদের ভুল ভেঙেছে। তারা বুঝতে পেরেছে, কাদের ভোট দিলে উন্নয়ন হয়। তাই এবার সবকটি সিটিতেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার মধ্যে রংপুর ও রাজশাহী সিটি রয়েছে। ইতোমধ্যে ২ সিটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
২০১৩ সালের ১৫ জুন একযোগে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই বছরের ৬ জুলাই হয় গাজীপুর সিটির নির্বাচন। এর আগে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটিতে নির্বাচন হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের শুরুতে ৭ সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কাজ চলছে নির্বাচন কমিশনে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০১৮ সালের শেষ বা ২০১৯ সালের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। এ অবস্থায় আগামী বছরের শুরুতেই ৭ সিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে পর্যায়ক্রমে প্রথমে রংপুর, এর পর চার সিটি তথা বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট এবং শেষে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রাখা হচ্ছে। তবে ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, এই ৬ সিটির মেয়াদ কাছাকাছি সময়ে শেষ হবে। তাই অনেক কর্মকর্তা সিটি নির্বাচন একসঙ্গে করার পক্ষে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ