আব্বাসের অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিল প্রশাসন

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২১, ১০:০৪ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :


রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভায় সরকারি খাল দখল করে বিতর্কিত মেয়র আব্বাস আলীর নির্মাণাধীন দুই ভবন ভেঙে গুড়িয়ে দিলো স্থানীয় প্রশাসন। পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ এহসান উদ্দীনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত শনিবার (৪ ডিসেম্বর) দিনভোর অভিযান চালিয়ে অবৈধ এই স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এটা উচ্ছেদের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। এরপ্রেক্ষিতে পৌর মেয়র আব্বাসকে ৩০ দিন আগে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর এটি আইন অনুযায়ী ভাঙা হচ্ছে। সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য এই অভিযান চালানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পবা উপজেলার কাটাখালি বাজার সংলগ্ন ১৯১ নং সমসাদীপুর মৌজার ৮২৩ ও ৯৬০ নং আরএস দাগের নালা শ্রেণির ১.৪২ ও ০.৯ একর জমি ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত। নালিশী খাল হতে ইতিপূর্বে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে বিএমডিএ পবা জোন কর্তৃক আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কাটাখালী পৌরসভা কর্তৃক আরসিসি ড্রেনের উপর নির্মাণাধীন ভবন দুইটির কাজ বন্ধের জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। এরপর ভবনটি উচ্ছেদের জন্য ২৫ আগস্ট নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্ছেদ না করায় আজকে সরকারি জায়গা দখল মুক্ত করা হলো।

স্থানীয়রা জানান, দ্বিতীয়বার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে কাটাখালি পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হবার পর আব্বাস আলী কাটাখালি বাজারের পানি নিষ্কাশনের প্রধান ড্রেনটি দখল করে তার উপর দোতলা মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে কটূক্তি করায় তার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এনিয়ে মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে গত ৩০ নভেম্বর ঢাকার রাজমনি ঈশাখাঁ আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে কাটাখালি পৌর আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বিষয়টি তদন্ত করে মতামতসহ জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। চিঠি দেওয়ার প্রায় দুই মাস পর ভবনটি ভাঙা শুরু করল প্রশাসন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরখানেক আগে কাটাখালী পৌরসভার ওপর দিয়ে যাওয়া খালটি ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পুনঃখনন করেন। গত এপ্রিলের দিকে কাটাখালীর মেয়র সরকারি এই খালের ওপর ভবন নির্মাণ শুরু করেন। ১৯ জুলাই একতলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে সরকারি খালের ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে খালের ওপর প্রায় ১ হাজার ১৪৪ বর্গফুট জায়গা জুড়ে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মেয়র আব্বাস আলী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া তিনি একই অভিযোগে পৌর আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তাকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগ এরইমধ্যে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ