আলাদা ভাবে আম বাজারটি ইজারা না থাকায় বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার || বাগাতিপাড়ায় ২৫ কোটি টাকার আম কেনা-বেচার সম্ভাবনা

আপডেট: জুন ২২, ২০১৭, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি


বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা আম বাজারের একটি আড়তে বিক্রির অপেক্ষায় রাখা আম-সোনার দেশ

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা বাজার জেলার সবচেয়ে বৃহত্তম আমের বাজার। চলতি মৌসুমে এ বাজারে প্রায় পঁচিশ কোটি টাকার আম কেনা-বেচার সম্ভাবনা রয়েছে। বাগাতিপাড়ার আমের রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যপক চাহিদা তৈরী হয়েছে। সরকারিভাবে নজরদারী বাড়ালে বাগাতিপাড়ার আম বিদেশেও চাহিদা রপ্তানী করা সম্ভব।
নাটোর জেলা সদর থেকে ৮ মাইল দক্ষিনে অবস্থিত বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলায় এ আমের বাজার। এ বাজারে এখন যে আম পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে আটি, রানীপছন্দ, ল্যংড়া, নাক ফজলি, তোতাপুরি, হাড়ি ভাঙ্গা, গোপালভোগ, খিরসাপাত, আ¤্রােপলী অন্যতম। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আম আশার পাশাপাশি পার্শবর্তী উপজেলা নলডাঙ্গা, লালপুর, সিংড়া ও নাটোর সদরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আম চাষীরা তমালতলা বাজারে আম আনেন। বেচা-কেনায় কোন ঝামেলা হয় না বলে যথেষ্ট সুনাম আছে এই বাজারের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়ায় গড়ে প্রতিদিন চৌদ্দশ থেকে পঁনেরোশ মণ আম কেনা-বেচা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় একুশ থেকে বাইশ লাখ টাকা। উপজেলার তমালতলাকে বৃহৎ বাজার বলা হলেও জামনগর, একডালা, বাজিতপুর, ছাতিয়ানতলা ও মালঞ্চিসহ বেশ কিছু স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে উঠেছে আরো ছোট কয়েকটি আমের বজার। তমালতলা বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ তারা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে ব্যবসা করলেও অন্যান্য স্থানে গড়ে উঠা আড়ৎগুলো কোন নিয়মনীতি না মেনেই তাদের ব্যবসা চালাচ্ছে। তবে তমালতলা আমের বাজারের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় ট্রাকে লোড-আনলোডের কাজগুলো করতে হচ্ছে বাগাতিপাড়া-নাটোর সড়কের উপরে। তাতে করে যানচলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার সাথে সাথে পথচারীদের পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সচেতনতায় পরামর্শ দিলেও যানযট নিরসনে তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে দেখা যায়নি। আমের বাজারটি সরকারিভাবে তালিকা ভুক্ত না হয়ে মূল বাজারের সাথে থাকায় সরকার বড় অংকের একটি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রশাসন সূত্র। এদিকে প্রশাসনের কাছে ব্যবসায়ীদের দাবি বাজার উন্নয়নে আমের ট্রাক লোড-আনলোড করতে নির্দিষ্ট স্থানসহ ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধা বাড়ালে আগামীতে আরো কেনা-বেচা বৃদ্ধি পাবে, ঘটবে এলাকার উন্নয়ন। আমের এই বাজারটিকে আলাদাভাবে বাজার ঘোষনার দাবিও জানান ব্যবসায়ীরা।
তমালতলা মোড় বাজার কাঁচা-পাকা ফলের আড়ৎ সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, তমালতলা বাজারে আমাদের রেজিস্টার্ড ভুক্ত সমতিরি ত্রিশটি আড়ৎ রয়েছে। আমরা সরকারি সকল নিয়ম মেনে ব্যবসা করছি। কিন্তু উপজেলার অন্যান্য স্থানে কিছু ছোট বাজার আছে তাদের দিকে একটিু নজর দেয়া প্রয়োজন। আমের ট্রাক লোড-আনলোডের স্থায়ী ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আম ব্যবসায়ী ও কৃষকের সুবিধার জন্য বাজারটিকে মূল বাজার থেকে আলাদা করে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করলে ভাল হয় বলে জানান তিনি।
বাগাতিপাড়ার আমের এই বৃহত্তম বাজারের সার্বিক বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, ‘ভোক্তা পর্যায়ে ভাল আম সরবরাহ নিশ্চিত করতে মওসুমের শুরুতেই আমার আম চাষি, ব্যবসায়ী ও সুধিজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছি। কোন অসাধু ব্যবসায়ী আমে যেন কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করতে না পারে তার জন্য ইমাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের বিভিন্ন মিটিংএ সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বশীলদের নজরদারী রয়েছে আমের বাজারে। আগামীতে ব্যবসায়ী ও আমচাষিদের সুবিধার্থে তমালতলা আম বাজারকে একটি আলাদা বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠার চিন্তাভাবনা রয়েছে।’ আমের আড়ৎ মালিকরা তাদের দোকানের সামনে ক্যারেট রেখে সড়কের উপরে ট্রাক লোড-আনলোডের কাজ করেন তাদেরকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ