ঈদ সামনে রেখে গামছা তৈরিতে ব্যস্ত বাঘার তাঁতিরা

আপডেট: জুন ১৯, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


ঈদ সামনে রেখে গামছা তৈরিতে ব্যস্ত বাঘার তাঁতিরা-সোনার দেশ

ঈদ সামনে রেখে গামছা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মোমিনপুর, রুস্তমপুর, পাঁচপাড়া ও চকসিংগার চার মহল্লার নারী তাঁতিরা। এখানকার উৎপাদিত গামছার চাহিদা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এখন দেশের অন্যান্য জেলাতেও পৌঁছানো হচ্ছে এলাকার তৈরি গামছা। এক সময়ের অভাবী পরিবারগুলো এখন সুখের সংসার করছেন।
উপজেলার রুস্তমপুরের মোমিনপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এই গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার গামছা তৈরির সঙ্গে জড়িত। এখানে প্রতি মাসে হাজার হাজার গামছা তৈরি হয়। যা কারিগরদের তৈরি এসব গামছা সপ্তায় দুইদিন শনিবার ও মঙ্গলবার স্থানীয় হাটে বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি দেশিয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তা বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। দিনদিন এর চাহিদা বেড়ে চলেছে। এ কারণে শতশত নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমান ভূমিকা রাখছেন।
স্থানীয় তাঁতী আবদুল খালেক বলেন, এই গ্রামের তাঁতীরা প্রতি মাসে অন্তত হাজার হাজার টাকার গামছা তৈরি করে। এখানকার উৎপাদিত গামছা আগত মহাজনদের কাছে বিক্রি করা হয়। যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। কিন্তু টাকা লেনদেনের জন্য আড়ানীর বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে হয়।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক সানাউল্লাহ বলেন, বর্তমানে এই গ্রামের তৈরি গামছার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বিদ্যুৎ লোডসেডিংয়ের কারণে সুতা রং করতে সমস্যা হচ্ছে।
৭০ বছর বয়সের ঊর্দ্ধে নিমাজান বেওয়া বলেন, গামছা বুনিয়ে চার ছেলে ও এক মেয়েকে মানুষ করে বিয়ে দিয়েছি। তাঁরা এখন নাতী-নাতনী নিয়ে সুখে সংসার করছে। এ বয়সে খালি বসে থাকতে ভালো লাগে না। এছাড়া ঈদের সময়ে তাঁতী গামছার চাহিদা থাকায় একটু চকরাতে সুতা তৈরি করে দিচ্ছি।
শামিমা নামের আরেক নারী ঈদ মৌসুমে গামছা তৈরি করতে ব্যস্ত। এ কাজ করে ছেলে ইমাম হাসান মেহেদী ও আল তোফিককে লেখাপড়া শিখিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বলে জানান।
পাশের বাড়ির শাহানা বেগম গামছা বুনাতে ব্যস্ত। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে সানাউল্লাহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছে। বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কৃজ্ঞপুর কমলাময়ী উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে গত বছরের ১৬ এপ্রিল যোগদান করেছেন। তিনি স্কুল ছুটিতে এসে সহযোগিতা করছেন। মেজো ছেলে রাজশাহী কলেজে গণিত বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। মেয়ে ববিতা অন্যত্র বিয়ে দিয়েছেন। তবে মাস্টার্স শেষ করা ও মাস্টার্স পড়–য়া ছেলে ঈদের সময়ে বাড়ি এসে মা-বাবাকে গামছা বুনাতে সহযোগিতা করছেন।
আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলী বলেন, এসময় চারটি গ্রামের তাঁতীরা খুব ব্যন্ত থাকে। এক বছরের আয় ঈদকে সমানে রেখে করার চেষ্টা করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ