এনজিওর নামে ১১ লাখ টাকা আত্মসাত ।। গণপিটুনি দিয়ে ‘ভুয়া’ কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



‘প্রত্যাশা’ নামে ভুয়া এক এনজিও’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অসহায়-দুস্থদের বিভিন্ন ভাতা দেয়ার নামে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কথিত ওই এনজিও’র কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস (৩২)। দীর্ঘ সময় থেকে প্রতারণা করায় এবং ভাতার টাকা প্রদানে ব্যর্থ হবার কারণে এনজিও কর্মকর্তা দীপক দাসকে গণপিটুনি দেয় ভুক্তভোগীরা। এরপর তাকে তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবিব জনরোষ থেকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। গত সোমবার রাতে নগরীর দাসপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দীপক নগরীর হেতেমখাঁ কারিগরপাড়া এলাকার অধীর কুমার দাসের ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগীদের পক্ষে দাসপুকুর এলাকার শামীম হোসেনের স্ত্রী স্মৃতি খাতুন নগরীর রাজপাড়া থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। পরে বিকেলেই তাকে আদালতের মাধ্যমে দীপককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দীপক কুমার দাস নিজেকে ‘প্রত্যাশা’ নামে একটি এনজিও’র কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে স্মৃতি ও শ্যামলীকে কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন। তাদের দু’জনের কাজ ছিল এলাকার বিভিন্ন ভাতা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। সমাজসেবা অধিদফতরের বিভিন্ন ভাতা পেতে এ টাকা ‘অফিস খরচ’ হিসেবে নেয়া হচ্ছে বলেও তাদের জানানো হয়।
ওই দুই নারী দীপককে গত দেড় বছরে ভাতা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ১১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা তুলে দেন। এর মধ্যে শিক্ষা ভাতার জন্য ২০০ জনের কাছ থেকে আদায় করা হয় মাথাপিঁছু আড়াই হাজার টাকা। শিশু ভাতার জন্য ৮০ জনের কাছ থেকে নেয়া হয় মাথাপিঁছু তিন হাজার টাকা। কিশোরী ভাতার জন্য ৮০ জনের কাছ থেকে নেয়া হয় মাথাপিঁছু দেড় হাজার টাকা। ঋণ পাইয়ে দেয়ার নামে ৩১ জনের কাছ থেকে নেয়া হয় মাথাপিঁছু সাত হাজার টাকা। গুডলোনের নামে সাত জনের কাছ থেকে নেয়া হয় মাথাপিঁছু সাড়ে তিন হাজার টাকা। এছাড়া বয়স্ক ভাতার জন্য ১০ জনের কাছ থেকে মাথাপিঁছু এক হাজার টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য চার জনের কাছ থেকে নেয়া হয় মাথাপিঁছু ৪০০ টাকা।
স্মৃতি বেগম বলেন, প্রত্যাশার নামে দীপক তাদের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ এলাকায় এ নামে কোনো এনজিও’র অফিস নেই। শুধু মুখের কথায় তারা দু’জন তাকে টাকা তুলে দিতেন। দীপকই তাদের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে যেতেন। সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বর তিনি ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। টাকা আদায়ের জন্য তাদের প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা বেতন দেয়ার কথা থাকলেও তাও তিনি দেননি। এদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাউকেই কোনো ভাতা দিতে না পারায় এলাকার লোকজন তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সোমবার রাতে তিনি এলাকায় গেলে তাকে স্থানীয়রা আটকিয়ে বেধড়ক গণপিটুনি দেন। এসময় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবিব বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর কাউন্সিলর তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করেন। এরপর কাউন্সিলর দীপককে রাজপাড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ভুয়া এনজিওর নামে দীপক কুমার দাস বিভিন্ন ধরনের ভাতা পাইয়ে দেয়ার নামে এলাকার সাতশ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, দীপককে থানায় নেয়ার পর প্রতারণার শিকার বেশকিছু নারী-পুরুষ থানায় ভিড় জমান। পরে মামলা হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে থানায় আটক অবস্থায় দীপক কুমার দাস গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, তিনি টাকা নিয়েছেন, এটা সত্য। তবে মামলার এজাহারে যে পরিমাণ টাকার কথা বলা হচ্ছেÑসে পরিমাণ নয়। তিনি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে কিছু টাকা ফেরতও দিয়েছেন।
প্রতারণার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রত্যাশা নামে কোন এনজিও আছে কী না- সেটি আমার জানা নেই। আর এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাই নি। তাই প্রতারণার বিষয়টিও আমি জানি না। তাছাড়া আমাদের ভাতা পেতে কোনো টাকা লাগে না। ভাতা দেয়ার নামে যদি গরিব মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়, তবে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’