কর্মস্থলে ফেরার টিকিটের জন্য হাহাকার

আপডেট: জুন ২৫, ২০১৭, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

সুফি সান্টু, নাটোর


পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করার জন্য নাড়ির টানে এখন বাড়ি ফিরছেন সাধারণ মানুষরা। পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ শেষে আবার ফিরবেন কর্মস্থলে। কিন্তু ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার জন্য বাসের টিকিট নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ মানুষরা।
বাসের আগ্রিম সব টিকিট ফুরিয়ে যাওয়ায় ঈদের আগেই দুশচিন্তায় পড়েছে নাটোর থেকে ঢাকাগামী মানুষরা। এদিকে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কাউন্টারগুলোর বিরুদ্ধে। নির্ধারিত ৩৭০ টাকার পরিবর্তে ৫শ টাকা এবং এসি গাড়ির টিকিটি ৯শ টাকার পরিবর্তে আদায় করা হচ্ছে এক হাজার ৪শ থেকে ১৫শ টাকা। শনিবার নাটোরের বড়হরিশপুর বাসটার্মিনালে সরেজমিনে ঘুরে এসব চিত্র ফুটে উঠেছে।
নাটোর শহরের কানাইখালি এলাকার মাহমুদ আলী। ঢাকা থেকে এসেছেন পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ করার জন্য। গাড়ী থেকে নেমেই ছুটে এসেছেন ফিরতি টিকিটের জন্য। কিন্তু বাস কাউন্টারগুলোতে এসে হতাশ। কারণ কর্মস্থলে ফেরার জন্য কোন টিকিটই পান নি।
মাহমুদ আলী বলেন, ঈদের একটু আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি এসেছি। অনেক কষ্ট করে বাড়ি ফেরার টিকিট সংগ্রহ করে এসেছি। ঈদের পরেই কর্মস্থলে ফিরতে হবে। কিন্তু কাউন্টারগুলো এসে ফিরতি কোন টিকিটই পাচ্ছি না। বেশি দাম দিয়েও কোন টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।
ঢাকায় গণমাধ্যমে কাজ করেন রাসেল মাহমুদ। বাড়ি না আসার আগেই ফিরতি টিকিটের জন্য কাউন্টারে বুকিং দেয়া হয়েছে। কারণ বাড়ি গেলেও ফিরতি টিকিট পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই আগে থেকেই এই ব্যবস্থা।
ফিরতি টিকিট কিনতে আসা সোহেল হোসেন বলেন, সকাল থেকে হরিশপুর বাস টার্মিনালগুলোতে বেলা ১টা পর্যন্ত ঘুরে ফিরতি টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন নি। তাই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার দুশচিন্তা নিয়ে ঈদ করতে হবে।
এদিকে কাউন্টারগুলোতে ‘আগামী ৩০ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত কোন টিকিট নেই’ এমন লেখা পোস্টার সাঁটানো হয়েছে কাউন্টারগুলোর সামনে। অনেকে দেখেই হতাশ হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। আবার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে কেউ কেউ। নির্ধারিত নন এসি গাড়ির টিকিটি ৩৭০ টাকার পরিবর্তে ৫শ টাকা এবং এসি গাড়ির টিকিটি ৯শ টাকার পরিবর্তে আদায় করা হচ্ছে এক হাজার ৪শ থেকে ১৫শ টাকা।
নাটোর হানিফ কাউন্টারের ম্যানেজার নিরব হোসেন বলেন, ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই তাদের বরাদ্দকৃত ফিরতি টিকিট শেষ হয়ে গেছে। আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত কোন টিকিট নেই। একবারে যাত্রীদের চাপ বাড়াই বরাদ্দকৃত সকল টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।
টিকিট বেশি দামের ব্যাপারে তিনি বলেন, কোম্পানি নির্ধারিত দামের চেয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত ঈদ সহ বিভিন্ন উৎসবে ওই দামগুলো নেয়া হয়।
ন্যাশনাল কাউন্টারের ম্যানেজার ইউনুস আলী বলেন, এবারের ঈদে তাদের গাড়ির টিকিট অনলাইনে ছাড়া হয়েছে। অনেকেই অনলাইন থেকে টিকিট কিনেছে। যারা আগে কিনেছে তারাই শুধু পেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নিয়মিত যাতায়াতকারী এসে টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। কারণ আগে থেকেই টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার কারণে এই অবস্থা।
এদিকে, নিবিঘ্নে যাতাযাতের জন্য বাস টার্মিনাল এলাকায় র‌্যাবের পাশাপাশি টহল দিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।