গোমস্তাপুরে এবার বাঁধ ভেঙে নতুন এলাকার ধান নিমজ্জিত, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট: মে ২৩, ২০২২, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:


বিল কুজইনের পর এবার একই ইউনিয়নের বিবিষন এলাকায় উজানের পানি ঢুকে বিলাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিলের সংযোগ সড়কে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ধান বোঝাই অর্ধশতাধিক যানবাহন আটকে রয়েছে। এছাড়া বাঁধের এপারের পানি ঢুকে শতশত একর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছে । কৃষক যে যেভাবে পারছে ধান কেটে নিরাপদ স্থানে রেখে দিচ্ছে। তবে শ্রমিক সংকট আর অতিরিক্ত শ্রমিকের মূল্য দিতে হিমসিম খাচ্ছে কৃষকরা।

গত এক সপ্তাহের আগে থেকে ভারতের উজানের ঢলের পানি অব্যাহতভাবে পুনর্ভবা নদীতে পড়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে । সেই পানি বিলের নিম্নাঞ্চল এলাকায় ঢুকে পড়লে বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন জমির ধান নিমজ্জিত হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিবিষন (লালমাটিয়া) খাঁড়ির উপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে পড়ায় সিঙ্গাবাদ পাথার বিলে নতুন করে ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে করে ওই বিলে থাকা শতশত একর জমির বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা জানান, গত কয়েক দিন যাবত ওই খাঁড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পুনর্ভবা নদীর পানি খাঁড়িতে প্রবেশ করায় তাতে অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে খাঁড়ির ওপারে থাকা অর্ধ শতাধিক ধান বোঝাই ট্রাক্টর আটকা পড়েছে।

রোববার দুপুরে ওই এলাকা সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার কৃষকরা আতংকিত হয়ে নৌকা যোগে কিছু ধান সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। ওই বাঁধ ভেঙে বিলের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হওয়ায় কৃষকরা আটকে পড়া ধান পরিবহন করতে পারছে না।

এ সময় তারা বাঁধটি সংষ্কার করে বিলের সাথে সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানান। এর আগে গত সপ্তাহে পুনর্ভবা নদী থেকে পানি প্রবেশ করা পার্শ্ববর্তী বিল কুজাইন ও চন্দের বিলের সাথে ওই বিলের সংযোগ থাকায় সেখানেও ঢলের পানি প্রবেশের আশংকা রয়েছে বলে জানান তাঁরা।

বিভিষন গ্রামের কৃষক নেফাউর রহমান জানান, দিন দিন পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিল এলাকার বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কয়েক দিনের লাগাতর বৃষ্টিপাতের কারণে এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসে ঢলের পানিতে বিলগুলো নিমজ্জিত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাজ্জাদ আলীর জানান, তাঁর কয়েক বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। বাকি ধান কেটে রাখা আছে। গাড়ি চলাচল না করায় ধান নিয়ে আসতে পারছেন না। এদিকে নৌকায় নিয়ে যেতে বিঘা প্রতি দুই হাজার টাকা নিবে। আর শ্রমিক নিচ্ছে এক হাজার টাকা।

এলাকাবাসি বলেন, জমির ধান নিমজ্জিত হতে দেখে উপস্থিত কৃষকদের হাহাকার করতে দেখা গেছে। তারা জানান, এমনিতেই ধান কাটা শ্রমিকের সংকটের কারণে সময়মত ধান কাটতে পারেননি। তার উপর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কাটাধান জমি থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ভেঙে যাওয়া বাঁধ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাবুর রহমান জানান,গত কয়েক দিন যাবত বাঁধটি স্থানীয়ভাবে সংষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হলেও পানির তোড়ের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান নুহু জানান, উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় বর্ষা মৌসুমে বিলাঞ্চলের এ দূরাবস্থার কথা তুলে ধরা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ