চলতি মাসেই ঈশ্বরদীকে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারমুক্ত ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: জুন ১০, ২০২২, ১১:৩১ অপরাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা):


পাবনা জেলার একমাত্র উপজেলা হিসেবে এবং রাজশাহী বিভাগের মধ্যে প্রথমবারের মত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারমুক্ত উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে ঈশ্বরদী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ৩০ জুন এই ঘোষণা দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা ও ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ সম্মেলকক্ষে ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন (ক শ্রেণির) পরিবারের শতভাগ পুনর্বাসন’ উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় এই সিদ্বান্ত গ্রহনের কথা জানানো হয়েছে। আগামী ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার ঈশ্বরদীকে ভূমিহীন পরিবারমুক্ত ঘোষণা করবেন বলে সভায় নিশ্চিত করে জানানো হয়।

পাবনা জেলার একমাত্র ও রাজশাহী বিভাগের মধ্যে ঈশ্বরদীকে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারমুক্ত উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতিও প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঈশ্বরদী পৌর এলাকাসহ সবগুলো ইউনিয়ন এলাকায় জরিপ করে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঈশ্বরদীতে নেই বলে নিশ্চিত করেছে স্ব-স্ব বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদীতে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ-আল মামুন। সভাপতিত্ব করেন ও স্বাগত বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিএম ইমরুল কায়েস। ইউএনও বলেন, উপজেলার ৭ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের তথ্যমতে ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতীয়মান যে, বর্তমান সরকারের গৃহহীন পরিবারমুক্ত প্রকল্পের আওতায় গৃহীনদের পুনবার্সনে ঈশ্বরদীতে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার নেই। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অন্যান্য এলাকাসহ ঈশ্বরদীকে আগামী ৩০ জুন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করবেন।

তিনি জানান, গৃহহীন প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরদীতে ১৬৩ গৃহহীন পরিবার জমিসহ নতুন বাড়ি পেয়েছেন। আরও ৩৬ গৃহহীন পরিবারকে নতুন বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। আদিবাসীদের জন্য ২০টি নতুন বাড়ি নির্মান করা হয়েছে। সব মিলে ঈশ্বরদীতে এই বাড়ির সংখ্যা ২১৯টি।

পরবর্তিতে গৃহহীন পরিবার খুঁজে পেলে তাদেরও বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। তবে আপাতদৃষ্টিতে উপজেলার সব গ্রামে খোঁজ নিয়ে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার এখন আর খুঁজে পাওয়া যায়না।
পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ-আল মামুন জানান, এ ক্ষেত্রে রূপপুর প্রকল্পসহ বিভিন্ন কারণে অগ্রসরমান উপজেলা হিসেবে ঈশ্বরদীকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঈশ্বরদীর বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং আদিবাসী পল্লিতে নির্মাণকৃত এসব বাড়ি তৈরির সময় সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান নায়েব আলী বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, সাঁড়া ইউপির চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার, লক্ষ্মীকুন্ডা চেয়ারম্যান আনিস উর রহমান শরীফ, মুলাডুলি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক মালিথা, সলিমপুর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা, পাকশীর চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিন্টু, দাশুড়িয়ার চেয়ারম্যান বকুল সরদার ও সাহাপুর ইউপি’র চেয়ারম্যান এমলাক হোসেন বাবু, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ, সিনিয়র সাংবাদিক খোন্দকার মাহাবুবুল হক দুদু, সেলিম সরদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সুধীজনরা।