চাঁপাইনবাবগঞ্জে চড়া সবজির দাম

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২২, ১০:১৭ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


চাঁপাইনবাবগঞ্জে সবজির বাজারও অনেকটাই চড়া। শুধু মৌসুমি নয়, সব ধরনের শাকসবজির দামই এখন ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ-অভিযোগের অন্ত নেই। ক্রেতাদের সঙ্গে অভিযোগ বিক্রেতাদেরও। তারা বলছেন, পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজির বাজারে দাম বেড়েছে। আর পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে। গত দুই-তিন দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম বাজার ভেদে বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এতে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন।

শুক্রবার পৌর এলাকার মডার্ণ মার্কেট কাঁচা বাজার, তহাবাজার ও বটতলাহাটের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে পটল প্রতি কেজি ৩৫ টাকা, বেগুন ৫৫ টাকা, জালি পিস প্রতি ৩৫ টাকা, দেশী করল্লা ৮৫ টাকা, মিষ্ট কুমড়া, ৪০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, কাঁচা কলা ৩৫ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ টাকা, শসা দেশী ৬০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিদেশী রসুন ১০০-১২০ টাকা, দেশী রসুন ৮০ টাকা, আমদানিকৃত পিয়াজ ৪০ টাকা, দেশী পিয়াজ ৫০ টাকা, আদা ৭০ টাকা, জিরা ৪৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মাছের বাজারেও। মাছের আড়তে প্রায় সব ধরনের মাছের দামও বাড়তি। মাছ ব্যবসায়ীরা বলেন, পরিবহনের ভাড়া বাড়ায় সব ধরনের মাছের কেজিতে অন্তত ৫০-৭০ টাকা বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের চড়া দামের তালিকা লম্বা হচ্ছে। এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে অপেক্ষাকৃত স্বল্প মূল্যের প্রোটিনের উৎস ডিমও, ডিমের হালি ৪৪ টাকা। এছাড়া দেশী মুরগি ৪ দিনের ব্যবধানে সাড়ে ৩’শ টাকা ও সোনালী মুরগি ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মডার্ণ মার্কেট সংলগ্ন কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল খালেক জানান, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্যবাহী ট্রাকে সব্জি বহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে। চাহিদার তুলনায় ক্রেতারা সব্জি কম ক্রয় করছেন। শামিম হোসেন নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, যশোর ও খুলনা থেকে ট্রাকে আগে বহন খরচ পড়তো ১২ হাজার টাকা, ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার টাকায় মালামাল আসছে।

ক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। চাহিদানুযায়ী সবজি ক্রয় করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ বাজারে মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সুযোগ নিচ্ছে। ক্রেতা জামাল হাসেন বলেন, বাজারে সবজি সরবরাহ থাকলেও চড়া দাম রয়েছে, এতে করে ক্রেতাদেরকে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এ মুহুর্তে বাজারে প্রশাসনের অভিযান চালানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আরেক ক্রেতা তারেক রহমান বলেন, জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, কিন্তু তেমন আয়ের উৎস বাড়েনি। এমন পরিস্থিতিতে সীমিত আয়ের মানুষের মাঝে ফুটে উঠেছে ভোগান্তির চিত্র।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ