জমি দখল নিতে এসে পাঁচ জেএমবি সদস্য গ্রেফতার ।। হামলায় নারীসহ আহত চার

আপডেট: জুলাই ৫, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি


দুর্গাপুরে গ্রেফতারকৃত পাঁচ জেএমবি-সোনার দেশ

রাজশাহীর দুর্গাপুরের নান্দীগ্রামে ভাড়াটে হিসেবে জমি দখল করে দিতে এসে পুলিশের হাতে পাঁচ জেএমবি সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। ঘটনার সময় জেএমবি সদস্যদের হাতে থাকা হাঁসুয়া ও ছুরির আঘাতে নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা জেএমবি সদস্য। কারণ, তাদেরকে বাড়িতে ঘিরে রাখার সময় তারা নিজেদের জেএমবি সদস্য বলে দাবি করেছে। তবে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম বলছেন, গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে হবে। তদন্তের পরেই বেরিয়ে আসবে তারা জেএমবি সদস্য কী না। তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, নান্দীগ্রামের ইসমাইল হোসেন (৬২), ইসমাইল হোসেনের ছেলে আসাদুল ইসলাম (২৮), সাইদুল ইসলাম (৩০) ও মেয়ে লাইলী বেগম (৪০)। এদের মধ্যে ইসমাইল হোসেনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তাকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার নান্দীগ্রামের মৃত তছির উদ্দিনের পুত্র ইসমাইল হোসেন তার ছেলেদের নিয়ে বাড়ির পাশে বাঁশ ঝাড়ে বাঁশ কাটতে যায়। এসময় ইসমাইল হোসেনের চাচাতো ভাই একই গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের পুত্র ইব্রাহিম হোসেন ভাড়াটে লোকজন নিয়ে বাঁশ কাটতে বাধা দেয়। এর ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরবর্তীতে ইব্রাহিম হোসেনের ভাড়া করা ‘জেএমবি’ সদস্যরা হাঁসুয়া ও ছুরি দিয়ে ইসমাইল হোসেন ও তার দুই ছেলেকে এলোপাথাড়ি কোপানো শুরু করে। এ সময় ইসমাইল হোসেনের মেয়ে লাইলী বেগম বাধা দিতে গেলে তাকেও হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।
এ ঘটনার পর গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসলে ইব্রাহিম হোসেন তার ভাড়াটে লোকজনসহ বাড়িতে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। ওই সময় আরো কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলেও জানান স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠায়। বাড়ি ঘেরাও রাখায় ইব্রাহিম হোসেনের ভাড়া করা লোকজন পালাতে না পেরে ভেতর থেকে স্থানীয় লোকজনকে হুমকি দিয়ে বলেন, তাদের বাড়ি বাগমারায়। তারা সবাই জেএমবি সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যামামলা আছে। তাদের বাড়ি থেকে বের হতে না দিলে যারা বাঁধা দেবে তাদেরকেও হত্যা করা হবে। এ সময় স্থানীয়দের উদ্দেশ করে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায় ওই জেএমবি সদস্যরা। এ ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ইব্রাহিম হোসেনের বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয় লোকজন।
ইসমাইল হোসেনের পুত্র সাইদুল ইসলাম জানান, ইব্রাহিম হোসেনের দুই ছেলে বিদেশ থাকেন। ওই জমির দখল নিতে ইব্রাহিম হোসেন বাগমারার মির্জাপুর তালতলি গ্রামের মৃত অছির মোল্লার পুত্র আবেদ আলী ওরফে আবেদ মেম্বারের সাথে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন। এরপর মঙ্গলবার তারা বাঁশ কাটতে গেলে ওই চুক্তি মোতাবেক তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় আলীপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের পুত্র শফিকুল ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেনের পুত্র হারুনুর রশিদ, নান্দীগ্রামের ইয়াকুব, লাজির, আজিত, মিঠুন ও ইব্রাহিম হোসেন তাদের হত্যার জন্য জন্য নির্দেশ দেন। এ সময় ভাড়াটে জেএমবি সদস্যরা তাদের হাঁসুয়া ও ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো শুরু করে।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে ইব্রাহিম হোসেনের বাড়ি তল্লাশি করে বাড়িতে থাকা ভাড়াটে লোকজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাগমারা উপজেলার মির্জাপুর তালতলি গ্রামের আক্কাস আলীর পুত্র আনোয়ার হোসেন (২৩), একই গ্রামের আবেদ আলী ওরফে আবেদ মেম্বারের পুত্র রাজু আহম্মেদ (২৫), ও আবুল মন্ডলের পুত্র উজ্বল মন্ডল (২৪)। একই উপজেলার রামরামা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র পিন্টু আলী (৩২) ও দুর্গাপুরের আলীয়াবাদ ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কামাল দেওয়ানের পুত্র রাকিব হোসেন (২০)। তবে তল্লাশি চালিয়ে কোন ধরনের দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায়নি বলে জানান ওসি।
ওসি আরো জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে ইসমাইল হোসেন ও ইব্রাহিম হোসেনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার সময় ইসমাইল হোসেন বাঁশ কাটতে গেলে ইব্রাহিম হোসেনের সাথে সংঘর্ষ বাধে এতে নারীসহ চারজন আহত হয়।
ওসি রুহুল আলম আরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রাকিব হোসেন ও পিন্টু আলী ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে জামাই। আর অন্যরা ভাড়াটে হিসেবে এসে ইব্রাহিম হোসেনের পক্ষ নেয়। তবে গ্রেফতারকৃতরা প্রকৃতপক্ষে জেএমবি সদস্য কিনা আপাতত বলা যাচ্ছেনা। তবে তাদের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে রাজু আহাম্মেদের নামে বাগমারা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মাজেদা বেগম বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৮ জন ও অজ্ঞাতনামা ১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। গ্রেফতারকৃতদের আজ বুধবার সকালে আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান ওসি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ