জমেছে বানেশ্বর আমের হাট

আপডেট: জুন ৪, ২০২০, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ:


বাইরে থেকে ক্রেতা আসায় পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটে জমে উঠেছে আমের বাজার-সোনার দেশ

ভালো জাতের আম হাটে আসার পরে জমে উঠেছে রাজশাহীর বৃহত্তম বানেশ্বরের আমের হাট। প্রতিদিন শত শত মণ আম এই হাটে উঠছে। ইদের পরে প্রথমদিকে হাটে কিছু আম ঊঠলেও তেমন দাম না থাকায় আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা ছিলো চিন্তায়। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারিরা আসায় দাম বাড়তে শুরু করেছে।
বুধবার ( ৩ জুন) বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের কাচারি মাঠে থেকে হাইওয়ে রোড পর্যন্ত শত শত ভ্যানে আম সাজিয়ে ক্রেতা বিক্রেতারা দামদর করছেন। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে এবার তাদের বাগানের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ আম ঝরে পড়েছে।
আর করোনার কারণে প্রথমে হাটে পাইকারি ব্যবসায়ীরা না আসায় দাম কম থাকায় লোকশান গুনতে হয়েছে। তবে গোপালভোগ ও হিমসাগর আম আসার পরে হাটে ক্রেতা বাড়তে থাকে। দাম থাকে ১২ শো থেকে ১৫শো টাকা মণ। গত শনিবার থেকে হাটে বড় গোপালভোগ আম উঠতে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যাপারি আসায় সেই আম এখন প্রতি মণ ১৮শো থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হাটের আম বিক্রি করতে আসা আমচাষি শিমুল জানায়, প্রথমে দুশ্চিন্তা ছিলামÑ তবে দাম বাড়ায় এখন আর চিন্তা নেই। ঝড়ে আম ঝরে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষতি হলেও দাম বাড়ায় তা পুষিয়ে নিতে পারবো। তিনি জানান, চার জাতের আম এখন হাটে। গোপালভোগ ১৮শো থেকে ২ হাজার, হিমসাগর ১৪শো থেকে ২ হাজার, লখনা ৭শো থেকে ১ হাজার ও গুটি জাতের সকল আম বিক্রি হচ্ছে, ৬শো থেকে ১৬শো টাকায়।
আম ব্যবসায়ী নাসির আলী জানান, গত শনিবার থেকে দেশের ঢাকা চট্টগ্রাম, বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, খুলনা থেকে পাইকারি ক্রেতারা আসছেন। এখন প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।
তিনি জানান, এখন বাজারে মোট চার জাতের আম উঠছে। গুটি জাতের আম, গোপালভোগ, হিমসাগর ও লক্ষণভোগ। গত শনিবার থেকে গোপাল ভোগ ও হিমসাগর আমের দাম মণ প্রতি বেড়েছে ২শো থেকে ৩শো টাকা করে। এখন গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ১৮শো থেকে ২ হাজার টাকায়।
বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী উজ্জল হোসেন বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় দাম কম থাকায় চিন্তায় ছিলো কি হবে! কিন্তু এখন দাম ভালো বাইরের ব্যাপারি আসছে। গত বছরের মতোই বেচা কেনা হচ্ছে’।
আম ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন,‘হাটে এখন চার জাতের আম উঠেছে। লক্ষণভোগ বাদে বাঁকি তিন জাতের আমের চাহিদা ভালো আছে। বাইরের পাইকাররা শুধু গোপালভোগ ও হিমসাগর কিনছে’।
দূরত্ব বজায় রেখে কথা হয়, ঢাকা থেকে আসা আমের ব্যাপারি নাসির উদ্দিনের সাথে। তিনি জানান, প্রাতি বছর এই বানেশ্বর হাটে এসে আম নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় দিয়ে থাকি। কিন্তু এবার একটু চিন্তায় ছিলাম আমরা এখানে আসতে পারবো কিনা! পরে নিশ্চিত হয়ে এসেছিÑ আমাদের জন্য এখানে হোটেলের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। সেখানে থাকার ব্যবস্থা করেছে, সেখানে থেকে সবাই ব্যবসা করছি।
এদিকে কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, রাজশাহী জেলায় আমবাগান রয়েছে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। অপরিপক্ক আম নামানো ঠেকাতে গেল চার বছরের মতো এবারও আম নামানোর সময় নির্ধারণ করে দেয় জেলা প্রশাসন। সে অনুযায়ী গত ১৫ মে থেকে গুটি আম, ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা এবং ২৮ মে থেকে হিমসাগর বা খিরসাপাত নামানোর সময় শুরু হয়েছে। ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪ জাতের আম।
গাছে গাছে ঝুলে থাকা আম দেখে চাষির স্বপ্ন যখন দুলছিল তখন গত ২২ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে রাজশাহীতে ঝড়-বৃষ্টিতে প্রচুর আম ঝরে যায়। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সেদিন গাছের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। এতে চাষিদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আম্পান যেতে না যেতেই ২৬ মে দিবাগত রাতে কালবৈশাখীতে ঝরে আরও অনেক আম। এখন হাটে উঠতে শুরু করেছে আম।
আর বিনা ভাড়ায় প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত আম ঢাকার পাইকারি বাজারে পৌঁছে দিচ্ছে ডাক অধিদফতর। মঙ্গলবার (২ জুন) থেকে এ কর্মসূচির আওতায় রাজশাহী অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত আম পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর ট্রেনে ঢাকায় আম পাঠানো হচ্ছে দেড় টাকা কেজিতে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ