টার্মিনালে জুয়া ও মাদকের ছয় আস্তানা গুড়িয়ে দিলো পুলিশ ।। ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঠা উদ্ধার

আপডেট: জুলাই ১৪, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর শিরোইল বাস ট্রার্মিনাল এলাকার ছয়টি জুয়ার আস্তানা গুড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মোটর শ্রমিকদের সহযোগিতায় বাস ট্রার্মিনালের ভিতরের দুইটি পাকা ও চারটি কাঁচা আস্তানা গুড়িয়ে দেয়া হয়। এ সময় ওই সব আস্তানা থেকে বেশকিছু ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঠা উদ্ধার করা হয়েছে। এই জুয়ার আস্তানাগুলো মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাসিকের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহাতাব হোসেন চৌধুরী নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে শ্রমিকদের অভিযোগ রয়েছে।
বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমান উল্লাহ বলেন, শিরোইল বাসটার্মিনাল এলাকায় ছয়টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। যেগুলোতে জুয়া ও মাদকের আসর বসতো। এর মধ্যে দুইটি পাকা এবং চারটি টিন চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। ওই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে বেশকিছু হাঁসুয়া ও লাঠি জব্দ করা হয় বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা বলেন, রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাসিকের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাতাব হোসেন চৌধুরী টার্মিনালের ভিতরে এই ছয়টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলেন। ওই স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত জুয়ার ও মাদকের আসর বসতো। ওই আস্তানাগুলোতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা জুয়া ও মাদক দ্রব্য বেচা-কেনা হতো। যেখান থেকে মাহাতাব চৌধুরী প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা পেতেন। এছাড়াও ওই আস্তানাগুলোতে মাহাতাব চৌধুরীর ক্যাডার বাহিনীর অস্ত্র মজুদ রাখা হতো বলে জানান এই শ্রমিক নেতা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের রিক্রিয়েশনের জন্য ওই ঘরগুলো করা হয়েছিল। সেখানে কোন জুয়া বা মাদকের আসর বসতো না বলে দাবি করেন তিনি। ওই আস্তানা থেকে উদ্ধার ধারালো অস্ত্রগুলোর তার লোকজনের নয় বলেও দাবি করেন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন কেন্দ্র করে সভাপতি প্রার্থী কামাল হোসেন রবির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাহাতাব হোসেন চৌধুরী। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে রাতে ভোট কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যালট পেপার ছিনতাই করা হয়। এ সময় উভয়পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় টার্মিনাল এলাকা। পরে নির্বাচন পরিচালানা কমিটি ওই নির্বাচন স্থগিত করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কামাল হোসেন রবিকে আহবায়ক করে কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে মাহাতাব চৌধুরীকে বাদ দেয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ