তানোরে ইঁদুর-কাটবিড়ালীতে দিশেহারা আলু ও গম চাষিরা

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহীর তানোরে ধানের পর এবার আলু ও গম খেতে ব্যাপকভাবে ইঁদুর ও কাটবিড়ালীর আক্রমণ দেখা দিয়েছে। খেতে গম ও আলু পুষ্ট হওয়ার আগ মুহূর্তে ইঁদুর ও কাটবিড়ালীর আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠে এখন ধান না থাকায় আলু গম, সরিসা, ও মশুর খেতে ইঁদুরের দল বাসা বেঁধেছে। আর কাটবিড়ালীরা জমির ধারের গাছ থেকে নেমে ফসল নষ্ট করছে। আর তারা আলুসহ রবিশ্যস্য গাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে। বিষটোপ দিয়েও কোন প্রতিকার মিলছেনা। ইঁদুরের কবল থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন কৃষক। এর আগেও এ উপজেলায় আমন ধান খেতে ব্যাপকভাবে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। খেতের পাকা ধান কেটে ফেলছিল ইঁদুর। এবার ইঁদুরের উপদ্রবে আলুসহ রবিশস্য খেত নিয়ে বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চলের চাষিরা।
উপজেলার মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এসময় মাঠে ধানসহ অন্য কোন ফসল না থাকায় ও বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। তবে শুধু বিষ টোপ নয়, কলাগাছ, লাঠি কিংবা বাঁশের কঞ্চিতে পলিথিন বেঁধে দিলে ও রাতে ফসলের খেতে টায়ার পোড়ানোর পদ্ধতি ব্যবহার করলে ইঁদুর কিছুটা ভয়ে খেত ছেড়ে চলে যাবে। কৃষকদের এই রকমই পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, গত বছর আলু চাষাবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ৫১২ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। আর সরিষা ১৩শ হেক্টর, মশুর ১২শ ২০ হেক্টর ও ১২শ ৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষাবাদ হয়েছে।
উপজেলার চিমনা গ্রামে আলু চাষি হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ২০ বিঘা জমিতে আলু চাষাবাদ করেছেন তিনি। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার খেতে আলু গাছ ভালোই বেড়ে উঠেছে। আর কিছুদিন পর আলু পুষ্ট হবে। এর মধ্যেই খেতে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আলুর পিলিতে ইঁদুর গর্ত করে গাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে। বিষ টোপ দিয়ে কোন প্রতিকার মিলছে না। এ অবস্থায় ইঁদুর নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।
তানোর উপজেলার চাঁচন্দর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন  জানান, এই ইঁদুর গাছে এমনকি অনেক সময় পানির ওপর খড়কুটো দিয়ে বাসা বেঁধে বসবাস করে। এই ইঁদুর দাঁতের বৃদ্ধি রোধ করার জন্য সামনে যা পায় কেটে তছনছ করে দেয়। আলু খেতে বাতাসে দোলে এমন পাতাযুক্ত ছোট কলাগাছ রোপণ করে খুটির সঙ্গে পাতলা পলিথিন বেঁধে দিতে হবে। আর গমের জমিতে বিষ মাখানো গম দ্বারা পলিথিনে মুড়িয়ে জমির আইলে রেখে ইঁদুর তাড়ানোর রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বাতাসে কলাপাতা নড়লে বা খুঁটির সঙ্গে বাঁধা পাতলা পলিথিন বাতাসে উড়লে খেতে লোকজন আছে ভেবে ক্ষতিকর এসব ইঁদুর অন্যত্র চলে যায়। এছাড়াও রাতে খেতের পাশে পুরনো টায়ার পুড়ালে তার গন্ধেও তারা খেত ছেড়ে পালায়। শুধু আলু খেতেই নয় বাসাবাড়িতেও এ ধরনের ইঁদুরের উৎপাত লক্ষ্য করা গেছে। সেখানেও এসব পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, ইঁদুর ও কাটবিড়ালী একটি জাতীয় সমস্যা। ইঁদুর যা খাই তার থেকে বেশি ফসল নষ্ট করে। তাই কৃষকদের পোকা দমনে যেমন পরামর্শ দেয়া হয়, পাশাপাশি ইঁদুর দমনেও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর তাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুরকে পুরোপুরি দমন করে ফেলতে হবে। যাতে তারা যেন আর বংশ বিস্তার করতে না পারে।