নগরীতে দোকান খোলা ও বন্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি

আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০২০, ১১:২২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীতে দোকান খোলা ও বন্ধ নিয়ে রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের ঘোষণার হেরফেরে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন দোকানিরা। এতে করে কোন পক্ষের সময়টা মেনে চলবেন এনিয়ে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সোনার দেশ অফিসে অনেক দোকানি ফোন করে জানতে চেয়েছেন। শুধু দোকানিরা নয়, অনেক ক্রেতাও এবিষয়ে সঠিক তথ্যটা পরিষ্কার হতে চান।
এ ব্যাপারে রাজশাহী বেনেতি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তসহ একেক জায়গা থেকে একেক রকম নির্দেশনা পেয়ে থাকি। এতে করে আমরা দিধাদ্বন্দ্বে রয়েছি। এই দুর্যোগ মুহূর্তে স্থানীয় প্রশাসনের এক জায়গা থেকে একরকম সিদ্ধান্ত আসা উচিত। আবার টেলিভিশনের প্রচারিত ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তগুলো আরও সুস্পষ্ট করে প্রচার করা দরকার।
তিনি আরও বলেন, আবার প্রশাসন থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়। তার আগে থেকে মুদি দোকানি ও কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঠে থাকা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা হুমকি ও লাঠিপেটা করে দোকানপাট বন্ধ করে দিচ্ছে। আমার সামনেই সাহেববাজারে আজকে (মঙ্গলবার) বেলা ১২টার দিকে অনেক দোকানিকে লাঠিপেটা করেছে। অথচ আরএমপি থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বাজারে দোকান বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে করে লাঠিপেটা ও হুমকি-ধমকির কারণে নগরীতে দোকান বন্ধ রাখার জন্য আমাকে চাপ দেয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দোকান বন্ধ করে দিয়ে খাদ্যদ্রব্যের হাহাকার পড়ে যাবে। তাই প্রশাসনকে এবিষয়ে ভাবতে হবে।
ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী আরও বলেন, জরুরিসেবার কারণে পুলিশ, ডাক্তার, নার্স, সংবাদপত্রের কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। তাদের মতো বেনেতি ব্যবসায়ীরাও জরুরি সেবার মধ্যে পড়তে পারে। তারাও সামাজিক দূরত্ব মেনে ঝুঁকি নিয়ে দোকান খোলা রেখে জরুরি সেবা দিতে পারেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসকের ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে, ‘সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে ওষুধের দোকান ব্যতিত সকল প্রকার দোকান বন্ধ থাকবে। কেউ অমান্য করলে কঠোর আইনী ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসক, রাজশাহী।’ এই স্ট্যাটাসের পর অনেকে জানতে চেয়েছেন, “স্যার, তাহলে কি মুদি, চা, বা ইত্যাদি দোকানে কি সকাল থেকে বিকাল খুলে রাখতে পারবে। স্যার মুদির দোকান কয়টা থেকে কয়টা খোলা থাকবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক জানান, ওরা (আরএমপি) ছয়টা বলেছে। কিন্তু অনেক সময় দোকান বন্ধ করতে করতে এক ঘণ্টা-আধা ঘণ্টা দেরি হয়ে যায়। এজন্যই সাতটা বলা হয়েছে। তবে সাতটার পর কোনো দোকান খোলা থাকবে না। তাই ক্রেতা ও বিক্রেতাকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে। সেইসাথে প্রশাসনের ঘোষণাকে মেনে চলে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়।
মঙ্গলবার রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের পক্ষে থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজার ব্যতিত পাড়া মহল্লার মুদি দোকানসমূহ সকাল ছয়টা হতে দুপুর দুইটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। অবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। উল্লিখিত নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, পাড়া-মহল্লা ও রাস্তার পাশে সিঙ্গেল দোকানগুলোকে দুপুর দুইটার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর বাজারগুলোতে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের স্ট্যাটাসের ব্যাপারে অবহিত করলে গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের নির্দেশনাগুলো দেয়া হয়েছে শুধু নগরীর জন্য। আর তিনি দিয়েছেন জেলার নয়টি উপজেলার জন্য। এতে বিভ্রান্তি হওয়ার কিছু নেই।
এদিকে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গত সোমবার সকাল ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির খন্দকারের সভাপতিত্বে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে আলোচনা সভায় স্থানীয় প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নগরবাসীর জন্য নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা জারি করে। গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় মহানগর এলাকা করোনাভাইরাস এর বর্তমান চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। আরএমপি এলাকায় এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার রাজশাহী মহানগরবাসীকে তিন দফা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করেন।
এগুলো হলো- প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টার পর হতে পরদিন সকাল ছয়টা পর্যন্ত ওষুধের দোকান ব্যতিত সকল প্রকার দোকান বন্ধ থাকবে। রাজশাহী মহানগরের বাইরে থেকে কোনো প্রকার যানবাহন বা ব্যক্তি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মহানগরে প্রবেশ করতে পারবেন না বা বের হতে পারবেন না। মহানগরের কোনো বাসিন্দা জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত বাড়ির বাইরে বের হবেন না এবং অযথা কোন যানবাহন রাস্তায় চলাচল করা যাবে না। তবে জরুরি সেবা, চিকিৎসা সেবা, ভোগ্য পণ্য, কৃষি পণ্য, রফতানিপণ্য ইত্যাদি পরিবহনকার্যে নিয়োজিত ব্যক্তি ও যানবাহন এ নির্দেশের আওতামুক্ত থাকবে।#