নগরীতে লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল

আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২১, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, সরকারি বিধি-নিষেধ সকলকে মানতে হবে। নিজেদের স্বার্থেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলার অন্য কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, রাজশাহীতে চলছে দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন। বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে আছেন। লকডাউন বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। শনিবার (২৪ জুলাই) নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে লকডাউনের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে এসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে, যা ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ সময় তিনি লকডাউন বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে নগরীর সকল গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নজরদারি রাখছে ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হতে পারছে না এবং পারবেন না বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল কঠোর বিধিনিষেধের ব্যাপারে জানান, সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়াও শপিং মলসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে, সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র, সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে। যেহেতু মানুষের প্রয়োজন হবে না বাইরে আসার, আগে অফিস আদালতে যেতে হতো, গার্মেন্ট কারখানায় যেতে হতো, এবার তা হবে না। তাই বিধিনিষেধ কঠোর থাকবে।’
তিনি আরও জানান, ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠপর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিদিন টহল দিচ্ছে। এছাড়াও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি সময় নির্ধারণ করছেন এবং তা বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জেলা প্রশাসক জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমানোর জন্য অবশ্যই বিধিনিষেধ মানতে হবে এবং ঘরে থাকতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হবেন না। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বেরুতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরবেন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। আমরা যদি ১৪ দিনের জন্য বিধিনিষেধ সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারি তাহলে আশা করছি সংক্রমণ অনেক অংশে কমবে; না হলে বাড়তে থাকবে হাসপাতালে রোগীদের চাপ ও সংক্রমণ হার। অতএব, সবাইকে অবশ্যই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।’
এছাড়াও তিনি আরও জানান, বর্তমানে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী অব্যাহত রয়েছে। যারা খাদ্য সংকটে আছেন তারা ৩৩৩ নম্বরে কল করছেন, তাদের বাসায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এর বাইরেও নগর আওয়ামী লীগ ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনো মানুষ খাদ্যর অভাবে সংকটে থাকবে না বলে জানান রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।
এসময় জেলা প্রশাসকের সাথে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম,সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রিয়াংকা দাস।