নগরীতে ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার চেক পেলেন ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তরা

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২১, ৯:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়। বুধবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের কাছে চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, প্রধানমন্ত্রী অধিগ্রহণকৃত জমির টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত অধিগ্রহণের টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে ওই এলাকায় বাজার মূল্যের তিনগুণ টাকা দিয়ে থাকেন। সে সময়ে দলিলে কম থাকলে কম পাবেন। সেজন্য জমি ক্রয় করে প্রকৃত মূল্য দলিলে উল্লেখ না করা পর্যন্ত জমির ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দলিল রেজিস্ট্রি না করার জন্য অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে আর কেউ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হবেন না। কোনো দালাল বা তৃতীয়পক্ষ না ধরে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখায় যোগাযোগ করলে অতি সহজে স্বল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক, পূর্বে অধিগ্রহণকৃত জমির টাকা উত্তোলন করতে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের অনেক কষ্ট পেতে হতো। কিন্তু বতর্মান সরকার জবাবদিহিতামূলক, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উল্লেখ্য, ৬০জন ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে- নগরীর মো. গোলাপ হোসেন পেয়েছেন ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫৬০ টাকা। মো. টিয়া আলী পেয়েছেন ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৬ টাকা। মোসা. রোকেয়া বেগম পেয়েছেন ২১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৫ টাকা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বাকি অর্থ বন্টন করা হয়। নগরীতে মোট ৬০জন ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।

রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে নগরীর তিন ভাই-বোন গোলাপ হোসেন, টিয়া আলী ও রোকেয়া বেগম। তাঁরা জানিয়েছেন, ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পেতে কোন ধরনের প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হতে হয়নি। এছাড়াও এই চেক বিতরণে কোনো প্রকারের দুর্নীতি ও হয়রানির স্বীকার কোনো ভূমি মালিককে হতে হয়নি বলে দাবি করেন সুবিধাভোগীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ