নাটোরে ব্রিজের মুখে খাস জমিতে বসতবাড়ি ভেঙ্গে নিতে বলায় ইউপি মেম্বারসহ ১২ জনের বিরদ্ধে মামলা

আপডেট: জুন ২০, ২০১৭, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি


নাটোরে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত ব্রিজের মুখে সরকারি খাস জমিতে করা বাড়ি ভেঙ্গে নিতে বলায় বাড়ি ভাঙচুরসহ চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে স্থানীয় ইউপি মেম্বারসহ ১২ জনের বিরদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের বারঘরিয়া শিবপুর গ্রামের আবদুুর রাজ্জাক ও রাজ্জাকের স্ত্রী রাশেদা বেগম বাদি হয়ে সদর থানায় ও আদালতে দুইটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে স্থানীয় মেম্বারসহ গ্রামের অন্যান্যদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তারাই লুকিয়ে রয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসি জানায়, সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের বারঘরিয়া শিবপুর গ্রামে খালের ওপর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ওই ব্রিজের মুখে জনৈক আবদুর রাজ্জাক সরকারি খাস জমিতে বাড়ি করে বসবাস করছিল। ব্রিজের মুখে বাড়ি পড়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্য এমরান আলী আব্দুর রাজ্জাককে বাড়ি ভেঙ্গে সরিয়ে নিতে বলেন। পরে রাজ্জাকসহ অন্যরা তাদের বাড়ি ঘর নিজেই ভেঙ্গে সরিয়ে নেয়। পরে রাজ্জাক ও তার স্ত্রী রাশেদা বেগমকে দিয়ে সদর থানায় ও আদালতে স্থানীয় ইউপি সদস্য এমরান আলীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করান। মামলায় বলা হয় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বাদির পরিবারের প্রত্যেকের কাছে ৭৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ইউপি সদস্য এমরান আলী তার সমর্থকদের নিয়ে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে ও ঘরের জিনিস পত্র লুটপাট করে। বাধা দিতে গেলে বাদির পরিবারের ছেলেমেয়েদের মারপিট করে জখম করে। যা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্থানীয় মেম্বার এমরান আলী জানান, প্রকৃতপক্ষে সরকারি খাস জমিতে রাজ্জাক বাড়ি করে বসবাস করছিল। কিন্তু বারঘরিয়া শিবপুর গ্রামে খালের ওপর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরে ব্রিজের মুখে তাদের বাড়ি পড়ায় তা ভেঙ্গে নিতে বলা হয়। তারা নিজেরাই বাড়ি ভেঙ্গে নিয়ে আবার মিথ্য অভিযোগ এনে তিনিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদেরকে হয়রানীর মুখে ফেলেছে। এতে করে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে মামলা করার পর থেকে রাজ্জাক ও তার স্ত্রী আত্মগোপনে রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ