নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ || বাগমারা জোনাল অফিসে ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

আপডেট: জুন ৪, ২০২০, ১১:৫০ অপরাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা:


বাগমারায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বিল সংশোধন ও পরিষোধের জন্য লাইন- সোনার দেশ

রাজশাহীর বাগমারায় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন বাগমারা জোনাল অফিসের বিল প্রস্তুতকারীসহ কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহককে হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিলিং অফিসারদের ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল প্রিন্টসহ গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরনের কারণে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে তদন্ত পূর্বক ওই সকল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন বাগমারার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। এছাড়াও অদক্ষ নারী বিলিং অফিসারদের পরিবর্তন করে যোগ্য বিলিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের হয়রানীর হাত থেকে রক্ষা করার দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও পরের মাসে অথবা তারপরের মাসেও বর্তমান বিলের সঙ্গে পরিশোধ করা বিল সংযুক্ত করে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি দেয়া হয়েছে। পরিশোধ করা বিল দেখে গ্রাহকরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। প্রায়ই গ্রাহকদের বেলায় এমন ত্রুটি লক্ষ করা গেছে। ডাবল বিলের ওই কপি সংশোধন করার জন্য যেতে হচ্ছে ভবানীগঞ্জ জোনাল অফিসের বিল প্রস্তুতকারী নারী কর্মকর্তাদের টেবিলে। সেখানে গিয়েও দুর্ব্যাবহারের স্বীকার হচ্ছেন অনেকেই। বিলের কপি সংশোধন করে দাঁড়াতে হচ্ছে লম্বা লাইনে। এমন অবস্থায় গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোস দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বাগমারা জোনাল অফিসে গিয়ে বৃহস্পতিবার (৪জুন) এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। সামাজিক দূরত্বের কোন সিস্টেম না থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে গ্রাহকরা তাদের বিদ্যুৎ বিল সংশোধন ও পরিশোধ করেন। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়েছেন গ্রাহকেরা। বাধ্য হয়েই সামাজিক দূরত্ব না মেনে হুড়োহুড়ি করে বিদ্যুতের বিল সংশোধন করে নিচ্ছেন তারা। বিল সংশোধন করতে গেলেও গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরন করছেন বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের বিল নেয়া বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা ব্যাংকসহ বিদ্যুৎ বিল গ্রহনকারী স্থানগুলো বন্ধ করে দেয় সরকার। যার কারণে গ্রাহকেরা তাদের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেনি। বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারণে বাগমারা জোনাল অফিসের বিলিং কর্মকর্তাগন অতিরিক্ত বিলসহ গ্রাহকদের কাছে বিল পরিশোধের চাপ দেয়। বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে মিটারে ব্যবহৃত বিলের কোন মিল না থাকায় গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ অফিসে বিল সংশোধনের জন্য ভিড় জমায়। অনেক গ্রাহককে বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরতরা গ্রাহকদের বিল সংশোধন না করে দুর্ব্যহার করে তাড়িয়ে দেয়। ওই সব ঘটনাকে কেন্দ্র বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের তর্কবিতর্ক করতে দেখা যায়। এরই মাঝে প্রভাবশালী কোন বিদ্যুৎ গ্রাহক হলে তাদের বিলগুলো দ্রুত সংশোধন করে তাদেরকে বিদায় করে দেয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।
বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহক আমজাদ হোসেন, সেলিম রেজা, জাহাঙ্গীর আলম, জামাল উদ্দীন, কামাল হোসেন, হেলাল উদ্দীনসহ একাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের আচরনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অধিকাংশ গ্রাহকদের অভিযোগ, বিলম্ব বিলে জরিমানা না নিলেও তার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হচ্ছে গাড়ী ভাড়া দিতে। কেউ কেউ ২৫/৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিদ্যুৎ অফিসে আসতে তাদেরকে ১০০ থেকে ১২০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া বাবদ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।
গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের গ্রাহক আফাজ উদ্দিন জানান, তার দুইটি বিল পরিশোধ করা থাকলেও এপ্রিল মাসের বিলের সঙ্গে সেগুলোও সংযুক্ত করা হয়েছে। হামিরকুৎসা ইউনিয়নের খাঁপুর গ্রামের আজাহার আলী, রায়াঁপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা, আলোকনগর গ্রামের আফজাল হোসেনসহ অনেক গ্রাহক জানান, তাদের ফেব্রুয়ারী, মার্চের বিল পরিশোধ করা থাকলেও এপ্রিল মাসের বিলের সঙ্গে আবারো তুলে দিয়েছে। বিলগুলো সংশোধন করতে ভ্যান ভাড়া করে জোনাল অফিসে এসেও দুর্ভোগের স্বীকার হতে হচ্ছে বলে জানান তারা। শুধু চলমান করোনা পরিস্থিতিতেই নয় এরকম হয়রানীর স্বীকার প্রতি মাসেই গ্রাহকদের হতে হয় বলে জানা যায়।
কোন কোন গ্রাহকদের ডিমান্ড চার্জ অতিরিক্ত ধরা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। এমন অভিযোগ গ্রাহকেরা জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা কোন জবাব দেন না। ওই অফিসে গিয়ে গ্রাহকরা প্রতিনিয়তই দুর্ব্যাবহারের স্বীকার হন বলে অনেকেই জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের এমন কার্যকলাপের তদন্ত করে ওই সকল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সুলতান মাহমুদ বলেন, দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে আমাদের লোকজন ভাল ভাবে কাজ করতে পারেনি। সময়মত গ্রাহকরা বিল পরিশোধ না করায় সফটওয়্যারের কারণে বিল ডাবল উঠে যাচ্ছে। যারা অফিসে আসছে তাদের বিলগুলো সংশোধন করা হচ্ছে। এরপর থেকে আমাদের অফিসে আর কোন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে না বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ