পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিলো একদল নারী

আপডেট: মে ১, ২০২২, ৯:০৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


ফরিদপুরের সালথায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১০ থেকে ১৫ জন নারী পুলিশের ওপর চড়াও হলে আসামি পালিয়ে যায়।
রোববার (১ মে) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আসামি তারা মিয়া খারদিয়ার ছয়আনি পাড়ার বাসিন্দা মৃত মো. মোফাজ্জেল মিয়ার ছেলে। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সমর্থক ও পুলিশের ওপর হামলা মামলার আসামি। তার নামে ২০১৯ সালে একটি এবং ২০২০ সালে দুটি মামলা রয়েছে। চার মামলার এ আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে নারীদের হামলার শিকার হন ওই দুই পুলিশ সদস্য।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের ছয়আনি পাড়া থেকে আসামি তারা মিয়াকে (৫৩) গ্রেফতার করেন সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লিয়াকত হোসেন। তাকে গ্রেফতারের সময় ১০ থেকে ১৫ জন নারী পুলিশের ওপর চড়াও হন। পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এ সুযোগে পালিয়ে যান আসামি তারা মিয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খারদিয়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জাগো নিউজকে জানান, যদুনন্দী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ার বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে ওই এলাকায় বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ২১ এপ্রিল খারদিয়া এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ থামাতে আহত হয় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়। মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়া গ্রেফতার হন। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) তারা আদালত থেকে জামিন পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল বন্ধ থাকায় যদুনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক মোল্যার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার ব্যাপারে সালথা থানার এসআই ও ২ নম্বর যদুনন্দী বিট অফিসার নাজমুল হুসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা আসামি তারা মিয়াকে ধরতে যাই। গিয়ে দেখি তিনি বসে আছেন। হঠাৎ করে ১০ থেকে ১২ জন মহিলা এসে সামনে ব্যারিকেড দেয়। এ সুযোগে আসামি পেছন থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন গুজব ছড়িয়েছে।’
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাদিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট এসআই আসামি ধরেছিলেন। এ সময় গ্রামের মহিলারা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। তখন আসামি পালিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) সুমিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তা নাজমুল ও লিয়াকত আসামি তারা মিয়াকে ধরে ফেলেছিলেন। কিন্তু এ সময় ওই এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নারী এগিয়ে এসে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন আসামি সুযোগ বুঝে কৌশলে পালিয়ে যান।’
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ