‘পেনাল্টি হিরো’ ব্রাভোর বীরত্বে ফাইনালে চিলি

আপডেট: জুন ৩০, ২০১৭, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পণ করে দাঁড়িয়েছিলেন গোলবারের নিচে, বল যেভাবেই আসুক না কেন, জালে জড়াতে দেবেন না তিনি। রিকার্দো কুয়ারেসমা, জোয়াও মৌতিনিয়ো, নানি- কারও শটই তেকাঠির ভেতর ঢুকতে দিলেন না ক্লাউদিও ব্রাভো। ৬ গজ দূর থেকে নেওয়া পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে নিজে বনে গেলেন নায়ক, সমান্তরালে চিলিকে তুলে নিলেন কনফেডারেশনস কাপের ফাইনালে। বেচারা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো পেনাল্টি শটের সুযোগটা নিতেই পারলেন না! তার আগেই টাইব্রেকারে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় তার দল পর্তুগালের।
কাজানের উত্তেজনাকর সেমিফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ও শেষ হয় একইভাবে। ফল নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় তাই টাইব্রেকারে। যেখানে গোলরক্ষক ব্রাভোর বীরত্বে চিলি পৌঁছে যায় মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ফাইনালে।
লাতিন চ্যাম্পিয়নরা ম্যাচটা না জিতলে অন্যায়ই হতো। অন্তত অতিরিক্ত সময়ের শেষ দুই মিনিটের সুযোগ সৃষ্টির কথা সামনে আনলে এমনটা বলাই যায়। ১১৯তম মিনিটে আরতুরো ভিদালের দূরপাল্লার শট প্রতিহত হয় পোস্টে, ফিরতি বল ফাঁকায় দাঁড়ানো রোদ্রিগেস শট করেেল এবার বল আঘাত করে বারে। ওই হতাশা ফুটবল দেবতা দূর করে দিয়েছেন টাইব্রেকারে দুহাত ভরে দিয়ে।
টাইব্রেকারের প্রথম শটটা নিয়েছিল চিলি। ‘লা রোজাদের’ হয়ে স্পট কিক নেওয়া ভিদাল বল জালে জড়াতে ভুল করেননি। এরপরই শুরু ব্রাভোর বীরত্ব। কুয়ারেসমার বাঁ প্রান্ত দিয়ে নেওয়া শট ঝাপিয়ে প্রতিহত করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলরক্ষক। চিলির দ্বিতীয় শট নিতে আসেন চার্লেস আরানগুয়েস, তিনিও ভুল না করলে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে যায় ২-০তে।
পিছিয়ে পড়ে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়া পতুর্গালকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে দ্বিতীয় শট নিতে আসেন মৌতিনিয়ো। তিনিও ধরা পড়লেন ব্রাভোর জালে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে তার নেওয়া শটও ঠেকিয়ে দেন চিলিয়ান অধিনায়ক। ওদিকে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর চিলির তৃতীয় শট নিতে আসা আলেক্সিস সানচেস উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন দুর্দান্ত শট থেকে লক্ষ্যভেদ করে। স্কোর তখন চিলি ৩-০ পর্তুগাল।
তৃতীয় শটটা জালে জড়াতে না পারলেই বিদায়- এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পেনাল্টি নিতে আসেন অভিজ্ঞ নানি। চাপটা আর নিতে পারলেন না। আগের দুই সতীর্থ বাঁ পাশ দিয়ে শট নিয়েছে ভেবেই সম্ভবত ডান দিক দিয়ে চেষ্টা করতে চাইলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক উইঙ্গার। কিন্তু এতটাই দুর্বল শট নিলেন যে, চতুর ব্রাভোর তিন নম্বর সেভটা করতে কোনও সমস্যাই হলো না।
কাজান অ্যারেনায় ততক্ষণে উল্লাসে ফেটে পড়েছে চিলিয়ান সমর্থকরা। আর ব্রাভো? সতীর্থদের নিচে পড়েছেন চাপা! জয়ের নায়ককে জড়িয়ে মানব পাহাড় বানিয়ে ফেলেছেন সানচেস-ভিদালরা। লাফিয়ে একজন চড়ছেন আরেকজনের গায়ের ওপর। পরে ব্রাভোকে শূন্য ছুড়েও জয় উদযাপন করেছেন চিলির খেলোয়াড়রা। তা তো করবেনই, ফাইনালে উঠা বলে কথা। তাও আবার ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালকে হারিয়ে!-বাংলা ট্রিবিউন