প্রতিবন্ধী হয়েও দুস্থদের পাশে রুজদার

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

বাঘা  প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা হেদাতীপাড়া গ্রামের নিজে প্রতিবন্ধী রুজদার রহমান (৩৮)। সমাজসেবা অধিদফতর থেকে প্রতি মাসে সাড়ে ৩০০ টাকা ভাতা পান। তবু দুস্থ প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা জমিয়ে তার বাবার দেয়া জমির ওপর একটি প্রতিবন্ধী স্কুল তৈরী করেছেন।
রুজদাদেরর স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে নিজ এলাকায় শিক্ষকতা করবেন। কিন্তু ভাগ্যে হয় নি। অবশেষে বাবার দেয়া ২৩ শতাংশ জমির উপর বাঘা-আড়ানী সড়কের তেঁথুলিয়ায় একটি প্রতিবন্ধী স্কুল তৈরী করেছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। রুজদারের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার স্বপ্নপূরণে বাধা হতে পারে নি। নিজের চেষ্টায় ১৯৯৪ সালে বাউসা হারুন-অর-রশিদ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৯৬ সালে আড়ানী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি ও একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৯৯ সালে ডিগ্রি পাস করেন। স্কুল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। ২০০৮ সাল থেকে উপজেলার সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ভাতার টাকা খরচ না করে জমানো শুরু করেন তিনি। ইচ্ছা দুস্থদের জন্য কিছু একটা করা। এমন ইচ্ছার কথা জেনে তার কয়েকজন বন্ধু আর্থিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলেন। সম্প্রতি তার বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী ও দরিদ্রদের মাঝে ৫০টি কম্বল বিতরণ করেন তিনি।
রুজদার রহমান প্রতিবন্ধী হওয়ার কারনে চাকরি পান নি। কিন্তু চাকুরি না পেয়ে বর্তমানে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সংসারে নানা সমস্যা আছে, তার মা অসুস্থ। তবু অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো জরুরি মনে করেছেন। তিনি জানান, এ কাজ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। তার স্বপ্ন প্রতিবন্ধীদের জন্য তৈরী করা বিদ্যালয়টি পরিচালনার জন্য সহযোগিতা চান তিনি।
বাউসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক বলেন, রুজদার একজন প্রতিবন্ধী তাকে সার্বিকভাবে সকলকে সহযোগিতা করা উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, এলাকার দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তার উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। এছাড়া প্রতিবন্ধী রুজদার রহমান এলাকায় বাল্যবিবাহ রোধসহ প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সহযোগিতা করেন। বিদ্যালয়টিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এলাকার সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।