ফিলিস্তিন মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ?

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘের বলিষ্ট ভূমিকা চাই

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠি হামাস ও ইসরাইলের মধ্যেকার হামলা ও পাল্টা হামলা পরিস্থিতি ভয়াবহ সঙ্কটের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। দু’পক্ষের লড়াই ভয়ানক থেকে আরো ভয়ানক হয়ে উঠছে। হামাসের হামলায় ইসরায়েলে যেমন মৃত্যুমিছিল চলছে, তেমনই ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় ক্রমে লাশের স্তূপে ভরে উঠছে গাজা। হামাস কর্তৃক ইসরাইলে হামলার পাল্টা হামলা হিসেবে ইসরাইল উত্তর গাজায় যে ভাবে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে করে মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে। দু’পক্ষের এই লড়াইয়ে অভিযোগ উঠছে, গাজায় হামলা চালাতে নিষিদ্ধ ফসফরাস বোমা ব্যবহার করছে ইসরায়েল। আর এই বোমা ব্যবহার ঘিরেই নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিচ্ছে। বহু মানবাধিকার সংগঠন এমনও অভিযোগ তুলেছে যে, ২০০৮-০৯ সালে গাজা যুদ্ধের সময় এই বোমা ব্যবহার করেছিল ইসরায়েল। জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই ইসরাইলের বর্বরোচিত হামলাকে যুদ্ধপরাধের সাথে তুলনা করেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনির প্রতিহিংসার তিব্রতা এতোই ব্যাপক যে, ফিলিস্তিনি জাতিসত্তাকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করার মত প্রয়াস। তারা জাতিসংঘকে বলেছে, উত্তর গাজার ১১ লাখ বাসিন্দাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ গাজায় স্থানান্তর করা উচিত। শুক্রবার জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র এ কথা বলেন। এর অর্থ এই দাঁড়াচ্ছে যে, হামলার তিব্রতা মারাত্মক রূপ ধারণ করবে। ইতোমধ্যেই ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। সেখানে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৪ লাখ ২৩ হাজার মানুষ।

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র হামাসের কাছে থাকা বন্দিদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকার সব সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবরুদ্ধ গাজায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বা মানবিক সহায়তাসহ কোনো মৌলিক সংস্থানের অনুমতি দেয়া হবে না বলেও ইসরাইলের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

হামাস ও ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় কিছু দেশ পক্ষ-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যেটা স্বাভাবিকভাবে হয়ে থাকে। বিশ্বে প্রভাব-প্রতিপত্তি পক্ষে রাখতে এরকম পক্ষ-সমর্থন বিশ্ব রাজনীতিতে সাধারণ ঘটনা। হামাস ও ইসরাইলের ক্ষেত্রে তেমনটিই হয়েছে। কিন্তু এর ফলে সাধারণ ফিরিস্তিন নাগরিকদের মত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে। এ এক নির্মম পরম্পরা। এই মুহূর্তে পরস্পরের হামলা ঘৃণ-বিদ্বেষ লাঘবের বিপরীতে পরিস্থিতিকে আরো উস্কে দেয়া হচ্ছে। মানবিক বিপর্যয়কেই তারা প্রত্যাশিত হিসেবে দেখছে। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরার কাজটিই অতিব জহরুরি। বর্বরোচিত হামলা-পাল্টা হামলাকে পক্ষে বিপক্ষের নিরিখে না দেখে শান্তি অন্বেষণের দিকে অগ্রসর হওয়াই সমীচীন। অন্যথায় রক্ত শুধু রক্তের ধারাই সৃষ্টি করবে, তা বন্ধ হবে না। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে সময়োচিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে মানবিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ