বদলগাছীতে মোশারফ হোসেনের অরক্ষিত দুর্লভ পুঁথি সরকারিভাবে সংরক্ষণের দাবি

আপডেট: আগস্ট ৫, ২০১৭, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

এমদাদুল হক দুলু, বদলগাছী


বদলগাছীতে নিজের করা ভাতশাইল প্রগতি সংঘ পাঠাগারে প্রয়াত মোশারফ হোসেন

উত্তরের বরেন্দ্র অঞ্চলের নিভৃতপল্লীর এক জনপদ নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ভাতশাইল গ্রাম। এই গ্রাম বাইরের থেকে আর দশটা গ্রামের সঙ্গে তেমন কোন পার্থক্য নেই। ধনী আছে দরিদ্র আছে একটা প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, পোস্ট অফিস আছে। অনেক গ্রামেই এসব আছে যা নেই তা হচ্ছে একজন মোশারফ হোসেন চৌধুরী। সাধারণ হয়েও যিনি অসাধারণ এবং তার গড়া ভাতশাইল প্রগতি সংঘ পাঠাগার।
সেই মোশারফ আর নেই। রেখে গেছেন তার জীবনভর সংগ্রহের দুর্লভ স্মৃতি। তার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি তার দুর্বার আকর্ষণ। বই পেলে আর কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। সেই সূত্র ধরেই চাকরাইলের রেজওয়ান লাইব্রেরির সদস্য হন। তখন তিনি সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। এক অনাকাঙ্খিত  ঘটনায় সেখানে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল তার। জুড়ে দেন কান্না- বই যে তাকে পড়তেই হবে। শেষে মা বললেন, ঠিক আছে তুই নিজেই লাইব্রেরি কর, আমি তোকে বছরে  ১শ টাকা করে দেব। দাদীও রাজি হলেন ১শ টাকা করে দিতে আর চাচা শফিউদ্দীন চৌধুরী তার বৈঠকখানা ঘর ব্যবহারের অনুমতি দিলেন। নিজের সংগ্রহের পাঁচটা বই- ঠাকুমার ঝুলি, আলীবাবা, আনোয়ার, সালেহা আর মুসলিম পঞ্চসতী- এই নিয়ে শুরু হলো যাত্রা। সেটা ছিল ১৯৪৭ সাল। ধীরে ধীরে যুক্ত হলেন গ্রামের প্রবীণরা। মোশারফ হোসেন চৌধুরী ঝোলা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন বই সংগ্রহে বন্ধু-আতœীয়, পরিচিত-অপরিচিত যার কাছে যেটা পাওয়া যায়। আর লোভনীয় কোন বই পেলে তো কথায় নেই। গ্রামের পর গ্রাম, মাইলের পরে মাইল হাঁটতেও তখন কোনো ক্লান্তি নেই। ১৯৫০ সালে এসে গঠিত হলো কমিটি। সুদূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই সিও (ডেভলপমেন্ট)-কে সভাপতি করে মোশারফ হোসেনকে করা হলো লাইব্রেরির সম্পাদক। দেখতে দেখতে সাতটা আলমারি বইয়ে ভরে গেল। শফি উদ্দীন চৌধুরীরর বৈঠকখানা আর সংকুলান হয় না। তাই নতুন জায়গা নির্ধারন করা হলো। তার আর এক চাচা আবদুুল মতিন  চৌধুরী তার ফাঁকা ১৫ শতাংশ জমি দান করেন। আর সেখানে ৫০ হাত দৈর্ঘ্য, ১৫ হাত প্রস্থ মাটির ঘর তুলে দিলেন শফিক চৌধুরী। এ থেকে ভাতসাইল প্রগতি সংঘ পাঠাগার পেল নিজস্ব ঠিকানা।  পড়াশোনার জন্য গ্রাম ছাড়তে হয় মোশারফ চৌধুরীকে। ঢাকায় এসে ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে। ১৯৫২ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। তাঁর চোখের সামনে সংগঠিত রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন। বদলে দেয় তার জীবনবোধ, জীবন দর্শন। দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নতুন করে তাকে ভাবিয়ে তোলে। তার চোখ খুলে যায়। জন্ম নেয় নতুন উপলব্ধি। তাঁর ভাষায়, আমরা যতই বড় বড় কথা বলি না কেন, আমাদের ভেতর খুব বড় একটা ফাঁক রয়েছে। নিজেদের ঐতিহ্য আছে, ভাষা আছে, সংস্কৃত আছে, ইতিহাস আছে কিন্তু আমাদের মধ্যে চেতনা নেই। ফলে সব কিছুই হয়ে পড়ে অন্তঃসারশূন্য। কাজেই সবার আগে প্রয়োজন শিক্ষা, যা গ্রাম থেকেই শুরু করতে হবে।
এর মধ্যে ব্যক্তি জীবনেও বয়ে যায় ঝড়। খুব কাছাকাছি সময়ে মারা যায় তার সবকিছুর উৎসাহযাত্রী মা, দাদী, আদরের বোন। তিনটি মৃত্যু তাকে অসহায় করে তোলে। লেখাপড়ার ইতি টেনে ফিরে আসেন গ্রামে। অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে ধরেন লাইব্রেরিটিকে। নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। তখন থেকে একটাই চিন্তা, কিভাবে লাইব্রেরির সংগ্রহ বাড়ানো যায়। গ্রামের মানুষকে লাইবেরিমুখী করা যায়। শুধু বই হলেই চলবে না, চলতি সময়ের খোঁজ খবর রাখতে প্রয়োজন খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন। শুরু হলো পত্রিকা রাখা। সেখানেও বিপত্তি। গ্রামে পোস্ট অফিস নেই, থানা সদর বদলগাছী থেকে সময়মতো পত্রিকা আসে না। অনেক সময় হারিয়ে যায়। কাজেই পোস্ট অফিস দরকার। আবার শুরু হলো ছোটাছুটি। শেষ পর্যন্ত পোস্ট অফিস হলো। গ্রামের যুবকদের নিয়ে ক্লাব করলেন। গ্রামে রাস্তা নেই বৃষ্টি হলেই চলাফেরা করা যায় না। এবার উঠেপড়ে লাগলেন রাস্তার জন্য। ১৯৬৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হয়ে তাও করলেন। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই বুঝে গেলেন ও পথ তার নয়, তাই আবার পুরোপুরি ফিরে এলেন লাইব্রেরিতে।
গ্রামে ঢোকার মুখেই লম্বা বারান্দাওয়ালা টিনশেড লাইব্রেরি ভবন প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যায়। ১৯৯১ সালে বন্যায় মাটির ঘর ভেঙে গেলে জেলা পরিষদ নির্মাণ করে দেয় ইটের ঘর। পাশেই পোস্ট অফিস, হাই স্কুল, প্রাইমারি স্কুল। সামনে ফাঁকা মাঠ। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রনে আসা প্রখ্যাত ব্রিটিশ লাইব্রেরি বিশেষজ্ঞ জে. স্টিফেন পার্কার এসেছিলেন লাইব্রেরিটি দেখতে। যাওয়ার সময় পরিদর্শন বইয়ে তিনি লেখেন, পৃথিবীর বহু দেশের অনেক লাইব্রেরী দেখেছি কিন্তু বাংলাদেশের সুদূর পল্লীতে এমন বৈশিষ্ট্যমন্ডিত লাইব্রেরি খুবই কম দেখেছি।
সত্যিই বিস্মিত হতে হয় লাইব্রেরিটি দেখে। তিনটি কক্ষ ভাগ করে ৭৫ ফুট লম্বা ভবনের ধার ঘেঁষে চাপা চাপি করে রাখা ৪৬ টি আলমারি। তার ভেতরে অতি কষ্ট করে রাখা ১৪ হাজার ৩০০ টি বই হাজার খানেক মূল্যবান পত্রিকা। লাইব্রেরিতে রয়েছে দেশ-বিদেশের মনীষীদের ছবি আর ঘরের মাঝে দিয়ে লম্বালম্বি সাজানো চেয়ার টেবিল। মাত্র পাঁচটি বই দিয়ে যে লাইব্রেরির যাত্রা শুরু করেছিল এখন সেখানে  খোলা হয়েছে পাঁচটি বিভাগ। সাধারন, গবেষণা, পত্রিকা, ইংরেজী ও ধর্মীয়। সাধারণ বিভাগে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের প্রকাশিত গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, ইতিহাস, রাষ্ট্রচিন্তা, দর্শন বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ের বই। গবেষণা বিভাগে রয়েছে ৭৭টি প্রাচীন পন্ডুলিপি। এগুলো তালপাতা, কলম গাছের বাকল এবং হাতে তৈরী কাগজের লেখা। এর কোনো কোনোটি  ২০০ থেকে আড়াইশ বছর আগে বলে ধারনা করেন প্রাচীন পুঁথি সংগ্রাহক মোহাম্মদ আবদুুল্লা খান। মনসামঙ্গল, গাজী কালু চম্পাবতী, সহি ইউসুফ জোলেখা, ছহি শেখ ফরিদ, ছহি চাহার দরবেশ, ছহি বড় সোনাভান, গোলে বাকাওলি, জঙ্গে খয়বর প্রভৃতি প্রাচীন পুঁথি আছে প্রায় দেড়শ। লোক কবিদের কাহিনী মূলক বই আছে ২৫০টি। রয়েছে প্রায় ২০০ বছর আগের হাতে লেখা কোরআন শরিফ। এছাড়াও উনিশ ও বিশ শতকের প্রথম  দিকের বেশ কিছু মূল্যবান বই, যেগুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, জয়পুরহাটের বিভিন্ন জনের বাড়ি ঘুরে ঘুরে। ১৯৯১ সালে বন্যায় তিনশ বইয়ে সংগে বেশ কিছু পত্রিকাও নষ্ট হয়ে যায়। তারপর ও সওগাত, মাহে নওসহ রয়েছে হাজার খানেক পুরানো পত্রিকা। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরগুনা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বুদ্ধিজীবী, গবেষক এসেছেন এখানে এবং তাদের কাজে লাইব্রেরির সাহায্য নিয়েছেন, কখনো বইও নিয়ে গেছেন। লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত তথ্যসূত্রে জানাযায় বগুড়ার ইতি কাহিনী ও  রাজশাহীর ইতিহাস এর লেখক কাজী মোহাম্মদ মিছের দুটি প্রাচীন পান্ডুলিপিএবং আরবি থেকে আরবি একটি ডিকশনারী নিয়ে গিয়েছিলেন পরে বহু যোগাযোগ করেও তা ফেরত পাননি এ ছাড়া আর একজন লেখক বেগম রোকেয়ার মতিচুর প্রথম সংস্কনের একটি কপি নিয়ে আর ফেরৎ দেননি। এঘটনার পর তিনি আর বাইরে বই দিতেন না। ব্যক্তি জীবনে বই প্রেমিক মোশারফ হোসেন  নিজেকে নিয়ে খুব একটা ভাবতেন না। তার চিন্তা চেতনা ছিল শুধু লাইব্রেরি। কিভাবে দুলর্ভ পুঁথি সংগ্রহ করা যাবে এ নিয়ে সবসময় মগ্ন থাকতেন। ১৯৫৬ সালে মোশারফ তার এক বন্ধুর মাধ্যমে খবর পেলেন নাটোরের এক জমিদার বাড়িতে বেশ কিছু পুরানো পুঁথি রয়েছে। মোশারফ হোসেন ওই জমিদার বাড়িতে বার বার গিয়েছেন পুঁথি সংগ্রহের চেষ্টায় কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন। পরবর্তীতে খবর পেলেন ওই জমিদার ভারতে চলে যাচ্ছেন সুযোগ বুঝে মোশারফ হোসেন আবারও চলে গেলেন ওই জমিদার বাড়িতে অবশেষে কিছু পুঁথি সংগহ করেই ফিরলেন সেখান থেকে। একই কৌশলে মোশারফ হোসেন মান্দা উপজেলার ফেট গ্রাম থেকে রামচন্দ্র নামে তার এক বন্ধুর কাছ থেকে বেশ কিছু পুঁথি উদ্ধার করেন। মোশারফ হোসেন সর্বশেষ পুঁথি সংগ্রহ করেন পার্শ্ববর্তী মহাদেবপুর উপজেলার সগহযোগী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের কাছে বেশ কিছু পুঁথি সংগ্রহে রয়েছে।  মোশারফ ভাবলেন সেখানে একা গিয়ে লাভ হবে না।  মোশারফ হোসেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাংলার শিক্ষক শাহ আলম চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের কাছে পুঁথি সংগ্রহের আবেদন জানান। তার আবেদর প্রেক্ষিতে হাবিবুর রহমান তার সংরক্ষিত সবকটি পান্ডুলিপি ভাতশাইল পাঠাগারে দান করেন। এভাবে তিনি ৭৭ টি পান্ডুলিপি সংগ্রহ করেন। এগুলোর কোনো কোনোটির ভাষা উভয় বাংলা। আবার কোনোটির ভাষা সংস্কৃত লিপি বাংলা। বর্তমানে পুঁথিগুলো খুব ভালো অবস্থায় নেই। ১৯৯১ সলে বন্যায় লাইব্রেরির ঘর ভেঙ্গে পড়লে বেশ কিছু পুঁথি ও বই ভিজে যায়। বর্তমানে লাইব্রেরিতে ২০ থেকে ২২ হাজার বই রয়েছে। ৩১ জানুয়ারি ২০১৪ সালে নিজ বাসভবন ভাতসাইল গ্রামে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মোশারফ হোসেনের মৃত্যুর পর বর্তমানে তার ছোট ভাই লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োজিত রয়েছেন সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন লাইবেরির জমি দানকারী তার চাচা মতিউর রহমান চৌধুরী। বর্তমানে লাইব্রেরিটি অরক্ষিত রয়েছে। ধুলো বালিতে বই পুস্তক জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে। নষ্ট হতে চলেছে দুর্লভ পুঁথিগুলো। শাহিন চৌধুরী  দুলাল হোসেন এনামুল হক নারায়ন চন্দ্র , শরিফুল ইসলাম, সুহেল, মজনুল হকসহ অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী জানায় লাইব্রেরি খোলা হয় না। গ্রামের লোকজন যে বই পুস্তক পড়বে সে সুযোগ পায় না। তাদের দাবি  মোশারফ হোসেনের অতি কষ্টের এ জ্ঞানভান্ডার ভাতশাইল গ্রামেই  সরকারি ভাবে সংরক্ষনের। লাইব্রেরির সভাপতি আবদুুল মতিন চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি জাতীয়  জাদুঘর থেকে  লোক এসেছিল লাইব্রেরি দেখতে। হাতে লেখা পুঁথি কোরআন, তালপাতার লেখাসহ  কিছু পুঁথি জাদুঘরে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেগুলি এখনো দেয়া হয়নি। বর্তমানে লাইব্রেরি যে অরক্ষিত রয়েছে এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন লাইব্রেরিতে একটা কেয়ার টেকার নিয়োগ দিয়ে সরকার যদি লাইব্রেরিটি সংরক্ষন করেন তাহলে এলাকাবাসী উপকৃত হবেন। বদলগাছী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুুস সালাম জানান লাইব্রেরিতে আমি একটা সোলার দিয়েছি। লাইব্রেরির বর্তমান চিত্র অনুসারে এটা সরকারিভাবে সংরক্ষন করা দরকার।  সদ্য বিদায়ী বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুসাইন শওকত বলেন যেহেতু এটা দুর্লভ পুঁথিশালা দেশের অভ্যন্তরে এমন একটি লাইব্রেরি বিরল। বেতন দিয়ে সার্বক্ষনিক কোন কেয়ারটেকার রাখার সামর্থ লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের নেই। এটাকে রক্ষা করতে হলে জাতীয় গ্রন্থাগার  অথবা সরকারিভাবে কোন কেয়ারটেকারের পদ সৃষ্টি করে এটাকে  সংরক্ষন করা হলে দুর্লভ পুঁথিগুলো নষ্ট হবে না। যে পুঁথিগুলো বাংলার ইতিহাসে বিরল।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে মোবাইল ফোনে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি ওই লাইব্রেরি দেখেছি। শীঘ্রই আমি আবারও লাইব্রেরিতে যাব। সেখানে গিয়ে এলাকাবাসীর চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ