বাগমারায় মাদ্রাসা শিক্ষক হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেফতার

আপডেট: জুন ১৯, ২০১৭, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাগমারায় মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার ওসি তদন্ত আসাদুজ্জামান আসাদ জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের গতকাল রোববার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার ওসি তদন্ত আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, দাদন ব্যবসার টাকা নিয়ে খাঁপুর গ্রামের আহম্মেদ আলীর ছেলে ফজলুর রহমানের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ওই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে হত্যার ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে ফজলুর রহমান মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে শিক্ষা দিবে বলে তার স্ত্রী ভাই একই ইউনিয়নের চকহরিনারায়নকুন্ডু গ্রামের আজিবর রহমানের স্বরনাপন্ন হন। আজিবর রহমান ঘটনার বিষয়টি শোনার পর তার আপন ভগ্নিপতি ফজলুর রহমানের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ৯ জুন তারাবির নামাজ শেষে ফজলুর রহমান ও আজিবর রহমান টাকা দেয়ার কথা বলে মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে মাদ্রাসার মাঠের পার্শ্বে ডাকে।  শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ফজলুর রহমানের ফোন পেয়ে দ্বীপপুর বাজারের এক দোকান থেকে তিনটি ঠান্ডার বোতল নিয়ে সেখানে যায়। খুনিরা মাদ্রাসার মাঠ পরিবর্তন করে মাঠের পার্শ্বের পান বরজের কাছে তাকে আসতে বলে।
খুনিদের কথামতো শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ সেখানে গেলে তিনজনে একইস্থানে বসে ঠান্ডা খাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এমন সময় আজিবর রহমান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের পার্শ্ব থেকে উঠে লোহার শ্যাবল দিয়ে তার মাথায় স্বজোরে আঘাত করে। আবুল কালাম আজাদ সেখান থেকে পালিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলের কিছুদূর এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওই সময় আজিবর রহমান ও ফজলুর রহমান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের পেটের ভীতর ছুরি ঢুকিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তখণ থেকেই পুলিশ হত্যাকারীদেও গ্রেফতারের জন্য মাঠে নামে। ওই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ঘটনার পর পরই গোলাম মোস্তফা, মিজানুর রহমান, আবদুস সামাদ ও মহাসীন আলী নামের চারজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়। সর্বশেষ শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের মোবাইল ট্যাকিং করে আজিবরের মোবাইল নম্বরের সন্ধ্যান পায়। ওই মোবাইলের সূত্রধরে গতকাল ভোর রাতে পুলিশ উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়নের চকহরিনারায়নকুন্ড গ্রামে অভিযান চালিয়ে আজিবর রহমানকে গ্রেফতার করে। আজিবর রহমানের তথ্যের ভিত্তিতে তার ভগ্নিপতি ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাদে তারা হত্যাকা-ের ঘটনাটি স্বীকার করে এবং ঘটনাস্থলের একটু দূরের ডোবা থেকে শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রেফতারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ