বাঘায় ডালা তৈরি করে ভাগ্যের পরিবর্তনের চেষ্টা ৩০ পরিবারের

আপডেট: আগস্ট ২, ২০২১, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা:


রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দূরে বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার শাহাপুর গ্রাম। এই গ্রামে ৩০টি পরিবার ডালা তৈরির মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করছেন। গ্রামের অল্প শিক্ষিত নারী-পুরুষ বাঁশ, কঞ্চি, দঁড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ডালা তৈরির কাজ করেন।
শাহাপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৪৮) ডালা তৈরি করে প্রতি মাসে আয় করেন সাড়ে আট হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। পাশাপাশি স্ত্রী আংগুরা বেগম ডালা তৈরি কাজের সহযোগিতা করেন। মাসে যা রোজগার করেন সংসারের খরচের জন্য যথেষ্ট। বিয়ের মাস ছয়েক পর থেকে ওই কাজে যুক্ত হন।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন রহিম উদ্দিন, জমসেদ আলী, সাধন হোসেন, জাদব আলী, ছহির হোসেন, পচা হোসেন, মিন্টু ইসলাম। জাহিদুল ইসলামের সম্বল বলতে বাবার দেয়া সাড়ে চার শতাংশ ভিটেটুকু। এছাড়া কোনো আবাদযোগ্য জমি নেই। দিনমজুর স্বামীর রোজগারে সংসার না চলায় আংগুরা বেগম (৪১) এখন ডালা তৈরির কাজে সহযোগিতা করছেন। দুই ছেলে নিয়ে তার চার সদস্যের পরিবার। বড় ছেলে আরিফুল ইসলাম ও ছোট ছেলে আকাশ হোসেন পড়ালেখা করছে। তার আয়ে সংসারে কিছুটা স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এক সময় দিনমজুর স্বামীর একার আয়ে সংসার চলছিল না। সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে তিনি ঘরকন্নার পাশাপাশি ডালা তৈরির কাজ করেন।
৬৫ বছরের বৃদ্ধ চয়েন উদ্দিন জানান, একটি ডালা তৈরি করলে মজুরি দিতে হয় ৬০-৭০ টাকা। একজন শ্রমিক প্রতিদিন তিন থেকে চারটি ডালা তৈরি করতে পারেন। এতে একজন শ্রমিক ২০০-২৫০ টাকা রোজগার করতে পারে। ডালা তৈরিতে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরে এনেছে এই গ্রামের ৩০টি পরিবার। তারা সুদমুক্ত ঋণের দাবি জানান।
একই গ্রামের চয়েন উদ্দিন জানান, সম্পত্তি বলতে বসত ভিটা ছাড়া আবাদযোগ্য জমি নেই। ডালা তৈরি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে। তবে আগের তুলনায় সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। আমার সাত ছেলে সবাই আলাদা হয়ে গেছে। আমি শেষ বয়সে এসেও যা আয় করি সংসার ভালোভাবে চলে। এখন দিনে দিনে তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
আড়ানী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড (শাহাপুর মহল্লা)’র কাউন্সিলার আবদুস হাকিম টুটুল জানান, এ গ্রামের মানুষ ডালা তৈরি করে সুন্দরভাবে দিন যাবন করছে। বর্তমানে তাদের সংসারে কোনো অভাব নেই।