বেপরোয়া পরিবহন শ্রমিকরা ।। সড়ক অবরোধ, সিএনজি ভাঙচুর

আপডেট: মার্চ ২, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



জনগণের ভোগান্তির পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। ধর্মঘট পালনের সময় বেপরোয়া হয়ে উঠে রাজশাহীর পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় সড়ক অবরোধ করে সিএনজি ভাঙচুর করে তারা। অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়।
তবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের কেন্দ্রীয় ঘোষণার পর বিকেল ৩টা থেকেই যানবাহন চলাচল শুরু হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান। এর আগে গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সংগঠনটি।
গতকাল ধর্মঘট চলাকালীন রাজশাহীতে পরিবহন শ্রমিকদের মারমুখি ভূমিকায় দেখা যায়। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এইসময় সড়কগুলোতে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হয়নি। রিকশা, অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ কর্মরত অবস্থায় থাকলেও তাদের দায়িত্ব পালন করেননি। বরং তারাই রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের ধর্মঘট পালনে সহায়তা করেছে। দীর্ঘ সময় মহাসড়কে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ জনগণ। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
গতকালও ধর্মঘটের কারণে রাজশাহী থেকে কোনো রুটেই যানবাহন চলাচল করেনি। সব বাস কাউন্টারই বন্ধ ছিল। শিরোইল বাস টার্মিনাল, নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল ও ভদ্রা এলাকায় সড়কের ওপরেই দীর্ঘ গাড়ির সারি তৈরি হয়। দূরপাল্লার বাস না চললেও রাজশাহীর আশেপাশের জেলা ও উপজেলা শহরে জনগণ অতিরিক্ত ভাড়া গুণে সিএনজি ও অটোরিকশায় চলাচল করছিল। কিন্তু বেলা সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করেই সিএনজি চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা। এরপর থেকে কোনো ধরনের সিএনজি চলাচল করতে দেয়নি শ্রমিকরা। যেসব সিএনজিতে যাত্রী ছিল তাদেরকে জোর করে নামিয়ে দেয়া হয়। আর যারা পরিবহন শ্রমিকদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিএনজি চালানোর চেষ্টা করে তাদের মারধোর করে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
সকালে রেলগেট থেকে বাস টার্মিনাল হয়ে তালাইমারী পর্যন্ত রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও ১০টার পর থেকে ওই রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এই সময় সহায়তা করে পুলিশ। তারা ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এই সময় ওই রাস্তায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হয়নি। কেউ ভুলক্রমে ওই রাস্তায় ঢুকে পড়লে তাদের মারধোর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে পরিবহন শ্রমিকরা। তালাইমারি ও রেলগেট এলাকায় ভাঙচুর চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। তালাইমারিতে গাছের গুড়ি দিয়ে অবরোধ করা হয়। এসময় পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে এসময় অনেকে আহত হয়। ওই রাস্তায় কোনো যানবাহন চলতে না দেয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটে স্টেশনে পৌঁছায়।
কথা হয় বেশ কয়েকজন তবলীগ ইজতেমার লোকজনের সঙ্গে। যানবাহন চলাচল করতে না দেয়ায় তারা ভদ্রা থেকে হেঁটে আসছেন। যাবেন খুলনায়। তাদের একজন ইয়াকুব আলী বলেন, ভদ্রার একটা মসজিদে তবলিগে এসেছিলেন। এখন আবার ফিরে যাচ্ছেন। দুইটার সময় ট্রেনের ছাড়ার সময়। ফলে বাধ্য হয়েই হেঁটে যেতে হচ্ছে।
এদিকে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকায় ট্রেনে ধারণক্ষমতার চার থেকে পাঁচগুণ যাত্রী বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ট্রেনে উঠতে না পেরেও অনেকে নিজ গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।